পীরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ সাড়ে ২১ একর জমি দখল মুক্ত করেছে প্রশাসন। সোমবার বিকেলে পীরগঞ্জ সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম লাল ঝান্ডা দিয়ে এ জমি উদ্ধার করেন। চন্দরিয়া আমিরপাড়া গ্রামের তিন ব্যক্তি এসব জমি অবৈধ দখলে রেখে দীর্ঘদিন ভোগ করছিল। উদ্ধারকৃত জমির আনুমানিক মূল্য আড়াই কোটি টাকা বলে জানান সহকারি কমিশনার (ভূমি)।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) বৈরচুনা ইউনিয়নের ২৯৪ খতিয়ানভূক্ত ৩১টি দাগে মোট ২১ একর ৫৭ শতক বেওয়ারিশ জমি ১৩/০৪/২০০৪ তারিখে খাস খতিয়ানভূক্ত করার জন্য সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে প্রস্তাব দেয়। সহকারি কমিশনার (ভূমি) ০৫/১২/২০০৪ তারিখে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। এরপর ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৬টি শুনানী গ্রহণ করে সহকারি কমিশনার (ভূমি)। কিন্তু শুনানীতে ভোগ দখলকারিরা তাদের পক্ষে কোন কাগজ দেখাতে পারেননি। তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার ০৪/০১/২০১৫ তারিখে খাস খতিয়ানভূক্ত করে বেওয়ারিশ ২১একর ৫৭ শতক জমি।
এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ দখলকারিদের সরকারি জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হয়। পরে এ জমি দখলদার আব্দুল করিম, আব্দুল হাশেম, শামসুল হক ০৬/০৪/২০১৫ তারিখে ঠাকুরগাঁও জেলা জজ আদালতে জেলা প্রশাসক ও এসিল্যান্ডসহ ৯৮ জনকে পক্ষভূক্ত করে বাটোয়ারা মামলা করে জমি তাদের দখল ধরে রাখে।
সোমবার পীরগঞ্জ সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম অবৈধ দখলে থাকা খাস খতিয়ানভূক্ত ২১একর ৫৭ শতক জমি লাল নিশানা দিয়ে দখল মুক্ত করে সরকারের পক্ষে নেন। এসময় জাবরহাট তহসিলদার রফিকুল ইসলাম, সেনগাঁও তহসিলদার আনিসুর রহমান, পীরগঞ্জ তহসিলদার আবু রায়হান, সার্ভেয়ার আশরাফ আলীসহ থানা পুলিশ সদস্যরা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সহযোগিতা করেন।
উল্লেখ্য ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের সূর্য্য নারায়ন ও শরৎ নারায়ন নামে দুই ভাই তাদের এ জমিসহ আরো অনেক জমি রেখে ভারতে চলে যান। তারপর থেকে ঐ দুই ভাইয়ের জমি বেওয়ারিশ জমি হিসেবে অনেকেই অবৈধ ভোগ দখল করে আসছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
ইত্তেফাক/আরকেজি