গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কারখানা মালিক, সরকার ও শ্রমিক পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পর্যালোচনা কমিটি আজ দুুপুরে ফের সচিবালয়ে বৈঠকে বসছে। বৈঠকে শ্রমিকপক্ষ ইতোমধ্যে চিহ্নিত হওয়া তিনটি গ্রেডে মূল মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরতে পারেন। এ বিষয়ে আজকের বৈঠকে সমাধানের রূপরেখা ঠিক করতে চান তারা। আর দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করতে আগামীকাল রবিবার নাগাদ সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা চলছে।
শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিন গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, সব পক্ষই চাইছে যাতে দ্রুত সমাধান হয়। তিনি বলেন, তিন, চার ও পাঁচ নম্বর গ্রেডে মজুরি বৃদ্ধির হার কম হয়েছে। আমাদের দাবি, এটি যাতে পুনর্বিবেচনা করা হয়। এছাড়া অন্যান্য ভাতা বাড়ানোয় মূল মজুরি কমে গেছে। ফলে অতিরিক্ত সময় কাজ করা কিংবা সার্ভিস বেনিফিট হিসাব করার সময় শ্রমিক কম অর্থ পাবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, আগামীকালের (আজ শনিবার) সভায়, এসব বিষয়ে একটি সমাধানে আসার চেষ্টা করবো আমরা।
এদিকে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটির প্রতি আস্থা রেখে আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। তবে আইবিসি বলছে, সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামোয় অনেক অসঙ্গতি রয়েছে, যা সমাধান জরুরি। চলমান গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার বৈঠকে বসে দেশের ১৫টির বেশি শ্রমিক ফেডারেশনের সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক অধিকার ফোরাম আইবিসি। সেই সঙ্গে, সাভারের উলাইলে আন্দোলনে নিহত শ্রমিক সুমনকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
তিন গ্রেডে কী আপত্তি শ্রমিকদের:
সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা গত ডিসেম্বর থেকে, যা চলতি মাসের বেতন হিসেবে শ্রমিকরা হাতে পাওয়ার কথা। এর আগে ২০১৩ সালে এ খাতের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, পূর্বের মজুরি বোর্ডে মূল মজুরি বৃদ্ধির যে হার ছিল, সর্বশেষ কাঠামোয় সে হারে মূল মজুরি বাড়েনি। অন্যদিকে ২০১৩ সালে মজুরি ঘোষণাকালে প্রতিবছর শেষে পাঁচ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্টের বিষয়টিও কার্যকর হয়। বর্তমানে শ্রমিকরা যে মজুরি পান, নতুন ঘোষিত মজুরিতে মূল মজুরি ক্ষেত্র বিশেষে না বেড়ে উল্টো কমে গেছে। মজুরি বাড়ানোর সর্বনিম্ন গ্রেড বা এন্ট্রি লেভেলে নজর দেওয়া হয়েছে। ফলে উপরের দিকের গ্রেডের সঙ্গে নিচের গ্রেডের মজুরির যে ব্যবধান ছিল, তাও কমে গেছে। শ্রমিক নেতারা হিসাব করে দেখিয়েছেন, ইনক্রিমেন্টের পর বর্তমানে তৃতীয় গ্রেডের একজন শ্রমিকের মূল মজুরি দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার দুইশ’ টাকা। আর একই গ্রেডে সরকার ঘোষণা করেছে ৫ হাজার ১৬০ টাকা। অর্থাত্ এই গ্রেডে মূল মজুরি না বেড়ে উল্টো ৪০ টাকা কমেছে। একইভাবে চতুর্থ গ্রেডে বর্তমানে একজন শ্রমিকের মূল মজুরি ৪ হাজার ৮৪৮ টাকা। আর ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ী মূল মজুরি ৪ হাজার ৯৩০ টাকা। এই গ্রেডে মূল মজুরি বেড়েছে ৮২ টাকা। পঞ্চম গ্রেডে বর্তমানে মূল মজুরি দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫০২ টাকা। আর নতুন ঘোষিত মূল মজুরি ৪ হাজার ৬৭০ টাকা। মূল মজুরি বেড়েছে ১৬৮ টাকা।