খুলনায় আলোচিত স্কুল ছাত্র মফিজুল ইসলাম বাপ্পী (১৬) হত্যা মামলার রায়ে আসামি রকিকে মৃত্যুদণ্ড ও আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১২টায় খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এস এম আশিকুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রকিকে একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে।
এছাড়া একই এলাকার আবু সাঈদের ছেলে আল-আমিন, আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. নজরুল, মোমরেজের ছেলে রবিউল, নিছার ওরফে আনছার আলীর ছেলে মিলন ও আজিজুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মুজিবর হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। দ-প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রবিউল, মিলন ও মুজিবর হাওলাদার পলাতক রয়েছে। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় হাসান ও ইব্রাহিম নামে অপর দুজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। হত্যাকা-ের দীর্ঘ ১০ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো। আদালতের সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের স্কুল মাঠে বাপ্পী ও তার বন্ধু রাজু একসঙ্গে বসে গল্প করছিলো। ওই সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে রাজুকে মারতে আসে দুর্বৃত্তরা। তখন বাপ্পী ঠেকাতে গেলে দুর্বৃত্তরা হকিস্টিক দিয়ে বাপ্পীর মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এই সুযোগে বন্ধু রাজু পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. ইসমাইল শেখ ও ডা. সহদেব কুমার দাসের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেয় বাপ্পি। ওই দিন রাত ১১টা ৫ মিনিটে বাপ্পী মারা যায়। এঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে খালিশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের ৩১ মার্চ পুলিশ ৮জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি মামলার চার্জ গঠন করা হয়।
আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট কাজী সাব্বির আহম্মেদ জানান, এ হত্যা মামলায় ১৮ জন সাক্ষির মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। আসামি রকি ও নজরুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তাকে সহযোগিতায় ছিলেন, এপিপি অ্যাডভোকেট শামীম আহমেদ পলাশ ও এপিপি অ্যাডভোকেট রেহানা পারভীন। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন কুমার ঘোষ।
ইত্তেফাক/এএম