নাটোরের সিংড়ায় আত্রাই নদীর পানির অব্যাহত বৃদ্ধিতে সিংড়া পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ওই দিন দিবাগত রাত ২টায় পানির তীব্র স্রোতে পৌর এলাকার শোলাকুড়া মহল্লায় সিংড়া বলিয়াবাড়ি রাস্তার বাঁধ ভেঙে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন মহেশচন্দ্রপুরসহ কয়েকটি মহল্লার হাজার হাজার মানুষ। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টার দিকে নাগর নদীর হিয়াতপুর নামক স্থানে সিংড়া-তাজপুর সড়ক ভেঙে ওই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এদিকে বন্যায় উপজেলার দুই হাজার ৭৭৬ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। প্রায় তেরোশ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। পানিবন্দি হয়েছেন অন্তত এক লাখ মানুষ। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ছুটছেন বন্যাকবলিত এলাকার দুর্গত মানুষরা।
সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ইতিমধ্য ২৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। শোলাকুড়া মহল্লা সংলগ্ন বাঁধ ভেঙে তিনটি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। আরও বাড়ি হুমকির মুখে। আমরা আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার নাসরিন বানু জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বিক খোঁজ-খবর নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষগুলো যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য ২৫টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে প্রায় ৮৮০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর মৃত্যু বার্ষিকীতে বিইউজে’র কর্মসূচি
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, নতুন করে বন্যার কারণে এই উপজেলায় ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ২ হেক্টর মাসকালাইসহ অসংখ্য সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিউল্লাহ জানান, দ্বিতীয় দফার এই বন্যায় উপজেলায় এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৩০০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। বন্যার পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আরও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে মৎস্য বিভাগ তৎপর রয়েছেন।
নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সদা প্রস্তুত রয়েছেন। সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। ইউএনওসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এসি