বিনোদন রিপোর্ট
বলিউড পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক একটি ইন্ডাস্ট্রি। চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে প্রচুর নারী কাজ করলেও পরিচালক পেশায় নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় নগণ্য। বলিউড পর্দায় নারী চরিত্রের মাধ্যমে এখানে মূলত প্রতিফলিত হয় পুরুষের কামনা-বাসনা। এ কারণেই ‘ড্রিম গার্ল’, ‘বেবি ডল’-এর মতো খেতাব জোটে বলিউড অভিনেত্রীদের। তবে ক্যামেরার পেছনে যখন থাকেন একজন নারী তখন নারীর জীবন একটু অন্যভাবেই উঠে আসে পর্দায়।
নারীদের জীন নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন বলিউডে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন দীপা মেহতা। আলোচিত বললে ভুল হবে, তাকে নিয়ে বিতর্কই বেশি হয়েছে। দীপা মেহতা এলিমেন্টস ত্রয়ী নামে খ্যাত চলচ্চিত্র ৩টির জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত। তার ত্রিলজি ‘আর্থ’, ‘ওয়াটার’ ও ‘ফায়ার’ ৩টি চলচ্চিত্রই নারীর আন্তর্জীবন কেন্দ্রিক।
আর্থ সিনেমার প্রেক্ষাপট ৪৭-এর দেশভাগ। সেখানে পোলিও আক্রান্ত এক কিশোরীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় পুরো সমাজকে। শাবানা আজমি, কুলভূষণ খারবান্দা ও স্মিতা পাতিল অভিনীত চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো এর সমাপ্তি। পুরুষের প্রেম ছাড়াও নারীর জীবন সার্থক হতে পারে বা চলতে পারে সেটির উপলব্ধি অন্য ধরনের মুক্তির সন্ধান দেয় পূজাকে (শাবানা আজমি)।
এই পরিচালকের ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফায়ার ব্যাপক সমালোচিত হয়। এর নেপথ্য কারণ, পর্দায় নারীদের সমকামিতাকে প্রাধান্য দেওয়া। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শাবানা আজমি ও নন্দিতা দাস। ওয়াটার সিনেমায় উঠে এসেছে কাশির আশ্রমে নির্বাসিত বিধবা নারীর অমানবিক জীবন। আঠারো ও ঊনবিংশ শতাব্দিতে বাঙালি বিধবা নারীকে পাঠিয়ে দেওয়া হতো পরিবার থেকে দূরে কাশিতে। সেখানে আশ্রমে ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যেত অসংখ্য নারীর জীবন, জীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, কামনা, বাসনা সবকিছুই। বিধবা নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চলতো।