রায়পুরে বেড়েই চলেছে অনুমোদনহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কেজি স্কুল

চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘নীতিমালা না মানার বিষয়টি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।’ অনুমোদনবিহীন বিদ্যালয়গুলোতে বই সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আছে, সেখানেই বই দেওয়ার নিয়ম

 এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ‘স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ ও ‘কেজি স্কুল’ নামে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চটকদার বিজ্ঞাপনে ভুলিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এতে শহরের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে অন্য স্কুল থেকে। প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে একাদশ শ্রেণি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের সরকারি কলেজে আসন সংকট এবং মানসম্পন্ন স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থী ধারণের ক্ষমতা কম থাকাকে পুঁজি করে বাসাবাড়িতে ও জমি ভাড়া নিয়ে কেজি স্কুল এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে এই ব্যবসা চলছে। এদের মধ্যে কিছু স্কুল ও কলেজ আবার জন্ম নিয়েছে কোচিং সেন্টারের পথ ধরে। কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়া শিক্ষকরাই আবার শিক্ষকতা করছেন এসব স্কুল ও কলেজে। শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় সাইনবোর্ড ও ব্যানার নিয়ে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রয়েছেন একই পরিবারের কয়েকজন। পাঠদানের অনুমতি না থাকায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও। এক্ষেত্রে সমাপনী পরীক্ষা দিতে এই স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের নিয়ে দ্বারস্থ হতে হয় অনুমতি থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। এসব স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাধিক অধ্যক্ষসহ আরও কয়েকজন প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, পাঠদানের অনুমতি না পেলেও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কুলের সাথে কলেজ নামটি ব্যবহার করা হয়েছে, আর বর্ষফিসহ অন্যান্য ফি নির্ধারণ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘নীতিমালা না মানার বিষয়টি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।’ অনুমোদনবিহীন বিদ্যালয়গুলোতে বই সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আছে, সেখানেই বই দেওয়ার নিয়ম।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানি রায় বলেন, ‘শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদনবিহীন কোনো স্কুল অথবা কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়া ঠিক না। ছেলে-মেয়েকে ভর্তির বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ায় প্রয়োজন। রায়পুরের এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’