নবাব হাসান আসকারীর পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি এখন বিনোদন পার্ক

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

রাজধানী ঢাকার নবাবের বংশোধর নবাব হাসান আসকারীর পরিত্যক্ত কাচারি জমিদার বাড়িটি এখন অবসর নন্দিনী বিনোদন পার্ক হয়েছে। মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন দখল হয়ে যাওয়া ৬ দশমিক ৮৪ একর বিশাল জায়গা নিয়ে তৈরি নবাব হাসান আসকারীর জমিদার বাড়ি উদ্ধার করে বিনোদনের জন্য পার্ক তৈরি করেছেন। এই পার্কে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকায় অবসর নন্দিনী বিনোদন পার্কে গিয়ে দেখা গেছে বিনোদন প্রেমিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের কর্মকর্তা সার্ভেয়ার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, নবাব শায়েস্তা খানের বংশোধর নবাব হাসান আসকারী জামুর্কি ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকায় প্রায় ৬ দশমিক ৮৪ একর জায়গা নিয়ে জমিদারি বাড়ি নির্মাণ করে জমিদারি পরিচালনা করেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জমিদারগণ বিশাল জমিদার বাড়ি ফেলে চলে যান। এখানে দৃষ্টিনন্দন সুনিপুণ হাতে গড়া পাকা ভবন, নবাবদের ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, এতিমখানা, রং মহল, পুকুর, লেক, কাচারি বাড়ি, বাগানসহ বিভিন্ন স্থাপনা থেকে যায়। মালিক না থাকায় ও পরিচর্যার অভাবে জমিদার বাড়িটি দখল হতে থাকে।

১৯৫০ সালের শেষের দিকে সরকার এই জমিদার বাড়িটি অধিগ্রহণ করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় একটি চক্র জমিদার বাড়িটির অধিকাংশ স্থাপনা ও জমি দখলে নিয়ে নেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়। মামলায় সরকার পক্ষ রায় পান। রায় পেয়ে জমিদার বাড়িটি দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে বিনোদনের জন্য পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

মির্জাপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন ও বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আজগর হোসেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতায় জমিদার বাড়িটির সংস্কার কাজ শুরু করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ একাব্বর হোসেন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর পরামর্শে জমিদার বাড়িটির নাম দেন মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন অবসর নন্দিনী বিনোদন পার্ক। ২০১৮ সালের ১ জুলাই এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এখানে দৃষ্টিনন্দন গেট নির্মাণ, এতিমদের জন্য মাদ্রাসা চালু, শিশুপার্ক, নাটক ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য মঞ্চ তৈরি, লাইব্রেরি, নানা প্রজাতির ফুলের সমাহারে বাগান তৈরি, বিভিন্ন প্রজাতির ফলের বাগান ও কাঠ বাগান, পুরাতন ভবন সংস্কার, বাউন্ডারি নির্মাণ, বিদ্যুত্ সংযোগ ও পানি সাপ্লাইসহ বিনোদন প্রেমিকদের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা চালু করেছেন। ফলে দিন দিন দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে সেবাদান কক্ষ, লাইব্রেরি, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কক্ষ, সাহিত্য কর্নার, তথ্য ও প্রযুক্তি সেবাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। বিশাল এই জমিদার বাড়ি ও অবসর নন্দিনী বিনোদন পার্ক থেকে সরকারের প্রতি বছর বিপুল অংকের রাজস্ব আয়ের একটি উত্স তৈরি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল মালেক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজগর হোসেন বলেন, মির্জাপুরে সরকারিভাবে তৈরি এই অবসর নন্দিনী বিনোদন পার্ক নিয়ে তাদের ভবিষ্যত্ নানা পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শিশুপার্ক তৈরি, একটি লাইব্রেরি তৈরি, রিসোর্স সেন্টার, উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি, একটি খেলার মাঠ, একুরিয়াম তৈরি, বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ নিয়ে বাগান, একটি মিনি চিড়িয়াখানা তৈরি, বয়স্কদের জন্য বিনোদন ক্লাবসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ। কিন্তু অর্থের অভাবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না বলে প্রশাসনের এই দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। জমিদার বাড়িটি রক্ষা ও অবসর নন্দিনী বিনোদন পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, গণগ্রন্থাগার, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য জোর দাবি এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসনের।