ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা
ঝিনাইগাতীতে অর্থাভাবে প্রতিবন্ধী পপি আক্তারের পড়ালেখা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পপি আক্তার (১৪) উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের কান্দুলী গ্রামের দিনমজুর মোঃ জয়নাল আবেদীনের কন্যা। পপি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। দু’হাত ও দু’পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় তাকে। পিতা জয়নাল আবেদীন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। বড়ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। পপি’র মা নাজমা খাতুন অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে যা আয় হয় তাই দিয়ে কোনোরকমে চলে তাদের সংসার।
জানা যায়, পপি জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধী। স্কুলপড়ুয়া প্রতিবন্ধী পপি ও তার পরিবারের অভাব-অনটন ও দৈন্যদশার ঘটনার বিষয় নিয়ে ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে সময় পপি পার্শ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলার ভটপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ সময় অর্থাভাবে পপি’র পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রমের প্রতিবেদনটি দৃষ্টিগোচর হয় শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আলমের। তখন তিনি প্রতিবন্ধী পপি’র ব্যয়ভার তুলে নেন তার নিজ হাতে। এস আলমের দেয়া অর্থে, ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পপি। এসএসসিতে পাঁচ বিষয়ে এ প্লাসসহ পপি সকল বিষয়ে ফলাফল ভালো করলেও গণিত ও অর্থনীতি— এ দুই বিষয়ে সে অকৃতকার্য হয়। ইতোমধ্যেই এস আলম বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে পড়ালেখার খরচে আবারও টানাপড়েনের মধ্যে পড়ে পপি।
ভটপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা ইয়াসমিন লাকী বলেন, পপি পড়ালেখায় একজন ভালো ছাত্রী। পপি জানায়, পড়ালেখার প্রতি তার খুব আগ্রহ। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অভাব-অনটন ও নানাবিধ দৈন্যদশার কারণে এসএসসি পাসের পর তার হয়তো আর পড়ালেখা করা সম্ভব হবে না। তাই পপির মা দেশের প্রকৃত দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য কামনা করেছেন।