ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্লট বরাদ্দের আবেদন নেওয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। চারটি স্তরে এ বরাদ্দ দেওয়া হবে। গত ২১ ডিসেম্বর থেকে আহ্বান করার পর এ পর্যন্ত তিনটি আবেদন পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। ঝালকাঠি-বরিশাল সড়কের পার্শ্ববর্তী ঢাপড় এলাকায় মোট ১১.০৮ একর সম্পত্তির উপর এ নগরী গড়ে তোলা হয়। এরমধ্যে প্লট বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত আছে ৯.২৬ একর। ২০১৫ সালে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে দ্রুতগতিতে সার্বিক কাজ সম্পন্ন হলে গত ২০ অক্টোবর ২০১৮ তারিখ সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এর উদ্বোধন করেন। ১৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি সমাপ্ত করা হয়।
ঝালকাঠি বিসিক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এখানে চার স্তরে মোট ৭৯টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরমধ্যে এ’ স্তরে ৬ হাজার ফিট, বি’ স্তরে ৪ হাজার ৫’শ স্কয়ার ফিট এবং সি’ স্তরে ৩ হাজার স্কয়ার ফিট প্লটের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। ১ টাকা ৫০ পয়সা দরে প্রতি স্কয়ার ফিট বছরে দিতে হবে। এ হিসেবে ৬ হাজার স্কয়ার ফিট প্লটের বছরে সার্ভিস চার্জ আসে ৯ হাজার টাকা। এর সাথে যোগ হবে পানি বিদ্যুত্ ও খাজনার টাকা। বাকি প্লট দেওয়া হবে বিশেষ বরাদ্দের জন্য। বিশেষ বরাদ্দের প্লট উদ্যোক্তার প্রয়োজনে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই দেওয়া হবে। গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত বরাদ্দ পাবার আবেদন করা যাবে। আবেদন প্রাপ্তির পর যাবতীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে বিসিক কর্তৃপক্ষ তা ভূমি বরাদ্দ কমিটির কাছে উপস্থাপন করবে। এ কমিটির সভাপতি হিসাবে জেলা প্রশাসক চূড়ান্ত বরাদ্দের অনুমোদন দিবেন। একজন উদ্যোক্তার প্লট পেতে হলে জমির মোট মূল্যের টাকা ১০ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। তবে ২ কিস্তির টাকা অগ্রিম জমা দিতে হবে। এরপরই প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। যদিও শুধু কারখানার ময়লা ফেলার ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ বাকি আছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি বিসিক শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক মো. সাফাউল করিম জানান, এখানে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে তাদের যারা শুধু ক্ষুদ্র শিল্প করার প্রকৃত মনমানসিকতা নিয়ে আসবে। কোনো মর্টগেজ ছাড়াই শুধু লিজ হিসাবে প্লট দেওয়া হবে। কিস্তিতে জমির মূল্য পরিশোধ করতে হবে। প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০% কোটা নির্ধারিত রেখেই এ বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।