স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবারই প্রথমবার খেলছেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক। এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার বিপিএল অভিষেকেই ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন। গত ৫ জানুয়ারি উদ্বোধনী ম্যাচে তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই রংপুর রাইডার্সকে হারিয়েছিল চিটাগং ভাইকিংস। গতকাল বিপিএলে নিজের তৃতীয় ম্যাচেও দলের জয়ের রূপকার এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও তাই তার দখলে।
গতকাল ২২ গজে খুলনা টাইটান্সের বিরুদ্ধে ফ্রাইলিঙ্কের পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য বললেও কম হবে। প্রথমে ব্যাট করে খুলনা ৬ উইকেটে ১৫১ রান করেছিল। রান তাড়া করতে নেমে জয়ের জন্য শেষ ওভারে চিটাগংয়ের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। আরিফুল হকের করা ওভারে নাঈম হাসানের এক ছক্কার পর চতুর্থ, পঞ্চম বলে ফ্রাইলিঙ্ক মারেন দুই ছক্কা। শেষ বলে ১ রান নিতে ব্যর্থ হন তিনি। চিটাগংয়ের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৫১ রান হওয়ায় ম্যাচ টাই হয়ে যায়।
পরে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে চিটাগং তোলে ১১ রান। পরে বোলার ফ্রাইলিঙ্ক রাজ্যের হতাশা উপহার দেন খুলনাকে। তার বোলিংয়ে ১২ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে পারেনি মাহমুদউল্লাহর খুলনা। ১০ রানের বেশি দেননি ফ্রাইলিঙ্ক।
বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার সুপার ওভারের রোমাঞ্চ শেষে রুদ্ধশ্বাস জয় পায় চিটাগং। চলতি আসরে দলটির এটি দ্বিতীয় জয়। দলকে জেতানোর এই মুহূর্ত কখনোই ভুলবেন না ফ্রাইলিঙ্ক। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বিষম চাপের ওই সময়ে শান্ত থাকার চেষ্টাতেই সফল হয়েছেন তিনি।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জয়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফ্রাইলিঙ্ক বলেছেন, ‘এমন জয় সত্যিই অসাধারণ। আপনি দেখেছেন জয়টা দলের জন্য কেমন ছিল। এসব মুহূর্তের জন্যই আমরা খেলাটা খেলি। সবাই খুশি ছিল। দর্শকরাও অনেক খুশি। কিন্তু এসব মুহূর্ত সারাজীবন মনে থাকবে।’
ক্যারিয়ারে প্রথমবার সুপার ওভার খেলেছেন ৩৪ বছর এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেছেন, ‘খুব কঠিন ছিল। এটা আমার প্রথম সুপার ওভার ছিল। আমার মনে হয়েছে ১১ রান খুব ভালো। আমি নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখেছি এটা আটকে দিতে। অবশ্যই আমি কিছুটা ভুল করেছি যখন মালান একটা চার মেরেছিল। কিন্তু আপনার শান্ত থাকা প্রয়োজন। যখনই আপনি ব্যাটিং বা বোলিং করেন।’
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী সময়ে স্নায়ুচাপ সামলে পারফর্ম করার রহস্য জানতে চাইলে ফ্রাইলিঙ্ক বলেছেন, ‘সাত নম্বরে ব্যাটিং এবং শেষ দিকে ব্যাটিং, এমন অবস্থায় আমি অনেকবার পড়েছিলাম। শেষ ওভারে ১৫ রান করা বা ১০ রান আটকে দিতে হবে। সৌভাগ্যক্রমে আমার ক্যারিয়ারে এটা অনেকবার করতে হয়েছে।’
অন্যদিকে টানা চার ম্যাচ হেরে বিষণ্ন খুলনা শিবির। প্রথমবার সুপার ওভার খেলার অভিজ্ঞতা তিক্ত হয়ে গেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে খুলনার অধিনায়ক বলেছেন, ‘জিততে পারলে ভালো লাগতো অবশ্যই। প্রথমবারের মতো বিপিএলে সুপার ওভার। কেউই তো আসলে সুপার ওভার চায় না। কোনো অধিনায়কই সুপার ওভার খেলতে চাইবে না। ১ ওভারে ১৯ রান ডিফেন্ড করা আমাদের উচিত ছিল। সুপার ওভারেও ১২ রান চেজ করা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা পারিনি।’
দলের পারফরম্যান্সে নিজের ভেতর তৈরি হওয়া হতাশা লুকাতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘আমি আজকের (গতকাল) ম্যাচেই বলছিলাম, একটা জয় আমাদের দলকে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা যেভাবে খেলছি, তার চেয়ে আরো অনেক ভালো দল আমরা। কিন্তু আমরা তেমন আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে পারছি না, ব্যাটিং-বোলিং, ফিল্ডিং কোনো বিভাগে। হতাশাজনক, হতাশাজনক।’