তৈরি হবে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার মহানুভবতার দেয়াল

কুমিল্লায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ১০ উদ্যোগ

 মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পাইলট প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ১০টি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে কুমিল্লা নগরীর ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

উদ্যোগগুলো হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে সত্ এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন, লাইব্রেরি, সততা স্টোর, মহানুভবতার দেয়াল, ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যালয় আঙ্গিনায় ফুলের বাগান, দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ, আমার বিদ্যালয় আমি পরিষ্কার রাখি ও মায়ের দেয়া খাবার খাই।

পাইলট প্রকল্পের আওতাভুক্ত নগরীর ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক জানান, এটা ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। মুক্তিযুদ্ধ কর্নার এবং লাইব্রেরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রেরণা পাচ্ছে। তাদের মাঝে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হচ্ছে। ইংলিশ ল্যাংগুুয়েজ ক্লাবে প্রতিদিন তারা একটি করে নতুন শব্দ শিখছে। আমরা যেভাবে তাদের শিক্ষা দিচ্ছি সেভাবে তারা আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশের সেবা করবে।

নগরীর কাঁটাবিল এলাকার রেয়াজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, আমরা এখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছি। মহানুভবতার দেয়ালে শিক্ষা সামগ্রী ও পোশাক রাখা হয়, এখান থেকে গরিব শিক্ষার্থীরা তা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। এছাড়া লাইব্রেরিতে রয়েছে মূল্যবান বই। এসব বই থেকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন বই এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছি।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সন্তানদের নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, সরকারের ভিশন-২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান বৃদ্ধিসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে ১০টি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রজেক্টের আওতায় ৭টি স্কুলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল বিদ্যালয়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে।