মাঠ পর্যায়ে তদারকির অভাব g ব্যন্ডরোল ক্রয়ে এনবিআরের নতুন নির্দেশনা
রিয়াদ হোসেন
সরকারের রাজস্ব আদায়ের বড় খাত তামাকজাত পণ্য বিপণনকারী বা বিড়ি ও সিগারেট কোম্পানিগুলো। কিন্তু বিশাল রাজস্বের এ খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জাল স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত রাজস্ব প্রশাসনও। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি এলাকায় নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিড়ি ও সিগারেট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তবে সূত্র জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে তদারকির ঘাটতি কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নকল স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে বিড়ি, সিগারেট বিপণনের মাধ্যমে সরকারের বিশাল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে অসাধু উত্পাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি এনবিআরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় ইস্যুটি উঠে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগ থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই আদেশে বলা হয়, বিড়ি উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডাকঘর কিংবা গাজীপুরের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের যে কোন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যান্ডরোল ক্রয় করতে পারবে।
এনবিআর সূত্র জানায়, বিড়ি ও সিগারেট খাতে ভ্যাট ফাঁকি রোধের ক্ষেত্রে এর আগে এনবিআর থেকে কিছু নির্দেশনা রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন হয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া রাজস্ব আদায় ইস্যু নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সভায় জাল স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট উত্পাদন করে কম দরে বিক্রি করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই সভায় কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত কেউ কেউ বলেন, ব্যান্ডরোলে সমস্যা থাকায় মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায় কমেছে।
ওই সভায় মাঠ পর্যায়ের তদারককারী কর্মকর্তাদের রদবদল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। রংপুরের ভ্যাট কমিশনার জানান, যে সব উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সেসব প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির জন্য টহল বাহিনী গঠন করা হয়েছে।
সরকারি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের মাধ্যমে ছাপানো ব্যান্ডরোল বিড়ি ও সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এসব ব্যান্ডরোল ক্রয় করে তা প্যাকেটে ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় সুরক্ষিত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, নানা উপায়ে অনিয়মের মাধ্যমে এ খাতে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাস মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ১ লাখ ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা। অর্থাত্ গত পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় রাজস্ব কমেছে ২৩ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আদায় ছয় শতাংশের কাছাকাছি। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ।