পাইকারী বাজারে হঠাত্ করে চাল, ডাল ও তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সরবরাহের কোন কমতি নেই। তারপরও এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাত্ চালসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে মোটা ও চিকন চাল বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আরা মশুর ডাল ও সয়াবিন তেলের দাম মণ প্রতি একই পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য দিকে আদা কেজিতে ৫০/৬০ টাকা ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১৫/২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারী বাজারের বিরূপ প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে ভোগ্য পণ্যের বাজারে হঠাত্ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কারণ ছাড়াই বাড়ছে পণ্যের দাম। দাম বৃদ্ধির সন্তোষজনক কোন উত্তর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। চালের দাম বৃদ্ধির জন্য দেশের উত্তরাঞ্চলের মিল মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন চট্টগ্রামের চাল ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে সয়াবিন ও ডাল জাতীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি কম হওয়াকে দায়ী করছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। অথচ ইতিপূর্বে আমদানি করা ভোগ্যপণ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুদাম ভর্তি। আগামী ৬ মাস আমদানি না করলেও বাজারে পণ্যের ঘাটতি হবে না ব্যবসায়ী সূত্র জানিয়েছে।
হঠাত্ চালের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে সাধারন মানুষ। চট্টগ্রামে আতপ চালের চাহিদা বেশি। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আনা চালে চট্টগ্রামের চাহিদা মেটানো হয়। ফলে প্রতিদিন শতাধিক গাড়ী চাল আসে চট্টগ্রামের চালের পাইকারী বাজারগুলোতে। নগরীতে চালের প্রধান পাইকারী বাজারের মধ্যে রয়েছে পাহাড়তলী, চাক্তাই, কাজীর হাট, বহদ্দারহাট ইত্যাদি। এসব পাইকারী বাজার থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে চাল সরবরাহ দেয়া হয়। পাইকারী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের চাল মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ বর্তমানে আমন চাল উঠেছে। গত বছরের বোরো চালও প্রচুর মজুদ রয়েছে মিল মালিকদের কাছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে মিল মালিকরা চিকন চাল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারী ভাবে কেজি ৩৬ টাকা দরে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল কেনা হচ্ছে। এতে মিল মালিকরা চিকন চাল বিক্রি বন্ধ রেখে সরকারকে মোটা চাল সরবরাহ দিচ্ছে। মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে উল্লেখিত কাজ করায় বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পাইকারী চাল ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছে। গত তিন সপ্তাহের মধ্যে চিকন আতপ ও সিদ্ধ দু’ধরনের চাল বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পাহাড়তলী পাইকারী বাজারের এক ব্যবসায়ী।
এদিকে খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্যের পাইকারী বাজারে ডাল জাতীয় পণ্য, সয়াবিন, পামওয়েল, আদা ও রসুনের দাম বেড়েই চলেছে। মশুরডাল মণপ্রতি ২৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগে মশুর ডাল মণ ১৩৫০/১৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর গতকাল শনিবার মশুর ডালের পাইকারী দাম ছিল মণ ১৬০০ টাকা। ছোলার দাম স্থিতিশীল থাকলেও মশুর ডালের হঠাত্ মূল্য বৃদ্ধির কোন সন্তোষজনক জবাব মিলছে না। জানা যায়,মাত্র গুটিকয়েক বড় আমদানিকারক মশুর ডাল আমদানি করেন। তাই সিন্ডিকেট করে মশুর ডালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে খাতুনগঞ্জের একাধিক পাইকারী ডাল ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে সয়াবিন ও পামওয়েলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিমণ ২৮৫০ টাকার সয়াবিন ৩০০০ হাজার টাকা ও ২১০০ টাকার পামওয়েল ২৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়তদার ব্যবসায়ীরা জানান, কেজি ৭০ টাকার আদা বর্তমানে ১৩০ টাকা ও ৪৫ টাকার রসুন ৬৫ টাকায় বিকি েহচ্ছে। এ প্রসঙ্গে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা ইত্তেফাককে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ডালজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলার সংকটে ব্যাংক গুলোতে এলসি হচ্ছে না। এতে আমদানিও কমে গেছে। এর ফলে বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’