জয়দেবপুর রেল জংশনে সুযোগ-সুবিধার অভাব

সমস্যায় যাত্রীরা

 মুজিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি

অবকাঠামোগত সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রতিদিন গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল জংশন দিয়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সাধারণ রেলস্টেশন থেকে বিগত প্রায় ১৫ বছর পূর্বে এটিকে রেল জংশনে উন্নীত করা হলেও এবং দিনে দিনে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও জংশনটিতে উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এমনকি প্রয়োজনীয় লোকবলও নিয়োগ করা হয়নি।

বর্তমানে এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনসহ দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে ৬২টি ট্রেন যাতায়াত করে থাকে। এ হিসাবে এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী যাত্রী সংখ্যা কমপক্ষে ১২/১৩ হাজার। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত গাজীপুর জেলায় বর্তমানে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার কর্মজীবীসহ বিপুল সংখ্যক লোকজন ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকে। 

রেলওয়ের পরি-সংখ্যানে রাজস্ব আয়ের দিক দিয়ে দেশের মধ্যে জয়দেবপুর রেল জংশনের স্থান ৬ষ্ঠ হলেও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ও যাত্রী সেবার দিক দিয়ে এর স্থান শ-এর নিচে নেমে গেছে বলে জানা যায়। শুধু একটি প্লাটফরম নির্মাণ করা ছাড়া জংশনটিতে অবকাঠামোগত আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে যে দুইটি প্লাটফরম রয়েছে সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় তেমন দীর্ঘ নয়।

তাই দুইটি প্লাটফরমই দক্ষিণের দিকে সম্প্রসারণ করা জরুরি। পাশাপাশি আর একটি প্লাটফরম নির্মাণ করাও প্রয়োজন। রেল জংশনের ১নং মিটার গেজ লাইনটিতে ব্রডগেজ লাইন সংযোজনসহ স্টেশনের পাসিং লাইনের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা জরুরি। রেল জংশনে লোকবলের সংকট থাকায় প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা দরকার। বর্তমানে ক্ষুদ্র পরিসরের একটি কক্ষ থেকে দুইটি মাত্র কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করা হয় বলে টিকিট ক্রয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময়মতো টিকিট না পেয়ে যাত্রীদের বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠে পড়তে দেখা যায়। জংশনটিতে শ্রেণি অনুযায়ী যাত্রী বিশ্রামাগার নেই। নেই প্রয়োজনীয় টয়লেট, নেই বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা। এমনকি জংশনে অনুসন্ধান কাউন্টারও নেই। জংশনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রেলওয়ে পুলিশ যেমন নেই, তেমনি নেই রেলওয়ের নিরাপত্তা ফোর্সও। আরেকটি লক্ষণীয় দিক হচ্ছে- এ জংশন দিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও টিকিট বিক্রির বরাদ্দ রয়েছে এক হাজারেরও কম। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এ জংশনে ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ৫টি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। ননস্টপেজের এ ট্রেনগুলো হচ্ছে- তিস্তা, রংপুর, মোহনগঞ্জ, অগ্নিবীণা ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যাবত্ এ ৫টি ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানানো হলেও রেল কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছেন না। জংশনের ২নং মধ্যবর্তী লাইনটিতে প্লাটফরম সুবিধা না থাকায় ট্রেনে যাত্রীদের বিপজ্জনক ভাবে উঠা-নামা করতে হয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ-শিশু ও নারীদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এদিকে প্রায় দুই বছর পূর্বে রেল জংশনের পশ্চিম পাশের গেটটি বন্ধ করে দেওয়ায় স্টেশনের আগমন ও নির্গমনে যাত্রীরা মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের উপর দিয়ে মালপত্রসহকারে যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখা যায়। তাই অবিলম্বে পশ্চিম পাশের গেটটি খুলে দেওয়া প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীরা মনে করেন।

এ ব্যাপারে জয়দেবপুর জংশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মোঃ শাহজাহান জানান, এ জংশনের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় পাচ্ছে সরকার। প্রতিদিন এ জংশন দিয়ে ১২/১৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। সেই তুলনায় স্টেশনে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী এ জংশনের অবকাঠামোগত সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে এলাকাবাসীদের অভিমত।