শ্রীলঙ্কায় হেরোইন ও কোকেন উদ্ধার

ঢাকায় মামলা, কলম্বোতে ৩ বাংলাদেশি নারী আটক

শ্রীলঙ্কায় ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেনসহ দুই বাংলাদেশি গ্রেফতারের ঘটনায় ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিআইডি’র এএসপি মো: ইকবাল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের হাতে আটক চয়েজ রহমানকে আসামি করা হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানাধীন একটি বাড়ি থেকে চয়েজ রহমানকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। তাকে ৫৪ ধারায় আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে কলম্বোতে আটক দুই বাংলাদেশির কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ওই দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশের তিন নারীকে আটক করেছে। তাদের নাম শাহীনা, রেহেনা ও তানিয়া। এই তিন নারী কলম্বোতে ওই মাদকের চালানটি পৌঁছে দিয়েছিল বলে তথ্য রয়েছে। দুই বছর ধরে অভিযুক্ত এই তিন নারী কলম্বোতে মাদক আনা নেয়ার কাজ করতো। তারা কখনো ঢাকা থেকে সরাসরি কলম্বো আবার কখনো কুয়ালালামপুর থেকে কলম্বো হয়ে ঢাকায় আসা যাওয়া করেছে।

অন্যদিকে, কলম্বোতে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি তদন্ত করতে ওই দেশে ৭ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দলকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, এ ব্যাপারে মন্ত্রনালয়ের আদেশ হাতে পেলেই আমরা যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেব।

কলম্বোতে গ্রেফতার হওয়া বগুড়ার জামাল উদ্দিন ও জয়পুরহাটের দেওয়ান রফিউল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় চয়েজ রহমানের যোগাযোগ ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডি আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিআইডি তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই-বাছাই করেছে। যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই শনিবার এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে।

সিআইডি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) রাজীব ফারহান বলেন, চয়েজ রহমানের সঙ্গে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। তার সঙ্গে কলম্বোতে গ্রেফতার হওয়া দুই বাংলাদেশির যোগাযোগ ছিল। এ কারণে কলম্বোর অপরাধের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় চয়েজ রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত ৩১ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার কলম্বোর মাউন্ট লাভিয়ানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বগুড়ার জামাল উদ্দিন ও জয়পুরহাটের দেওয়ান রফিউল ইসলামকে ৯ কেজি হেরোইনসহ গ্রেফতার করে সেদেশের পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য নিয়ে আরেকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৬৩ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন পর্যায়ে চিঠি চালাচালি হয়। বিষয়টি তদন্ত করতে ওই দেশ বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কাছে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চায়।