কোচিং কোর্সে আসছেন অনেক ফুটবলার

জাতীয় ও ক্লাব ফুটবলে দাপিয়ে বেড়ানো অনেক বর্তমান ও সাবেক ফুটবলার বাফুফের অধীনে কোচিং কোর্স করছেন। শুধু তাই নয় এদের কারো কারো মত, খেলার মধ্যে থাকা ফুটবলারদেরও এই কোচিং কোর্স করা উচিত।

আবাহনীর জার্সি গায়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মাঠে খেলতে থাকা মিডফিল্ডার প্রাণতোষ দাস ক্লাবটির হয়ে পেশাদার লিগে হ্যাট্রিক শিরোপাও জিতেছেন। আবাহনীর হয়ে ছয়টি ও  ব্রাদার্স ইউনিয়নের জার্সি গায়ে ২০০৮ সালে একটি শিরোপা আছে তার। আসছে  মৌসুমে খেলা ছাড়বেন। তার মধ্যেই ‘সি’ সার্টিফিকেট শেষ করেছেন তিনি।

বাফুফের অধীনে টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর পলস্মলীর কাছে কোর্স করতে গিয়ে তার উপলব্ধি, ‘যদি ফুটবল খেলার সময় এই কোর্সটি করতাম তাহলে খেলাটা আরো উন্নত হতো। অনেক কিছু জানতে পারতাম। মাঠে প্রয়োগ করতে পারতাম।’ দেশের পেশাদার লিগের সবকয়টি আসরে খেলা প্রাণতোষের মত হলো, ‘বর্তমান ফুটবলারদেরও এ ধরনের কোর্স করা উচিত।’

সেই উপলব্ধি থেকেই স্টপারব্যাক নাসির উদ্দিন চৌধুরী ফুটবল ক্যারিয়ারে ভালো অবস্থানে থেকেও কোচিং কোর্স করেছেন। জাতীয় দলে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকা এই ডিফেন্ডার দাপটের সঙ্গে ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন। বসুন্ধরা কিংস হয়ে এখন তিনি আবাহনীতে।

বাফুফের এই ‘সি’ সার্টিফিকেট কোর্স হচ্ছে চার গ্রুপে। এতে ১২০ জন অংশগ্রহণ করছেন। জুম অ্যাপসে আটটি সেশনের পর পাঁচটি প্র্যাকটিক্যাল সেশনও হয়েছে।

এই কোর্সে অংশ নেয়া বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন বাফুফে সাবেক সদস্য অমিত খান শুভ্র, জাতীয় দলের সাবেক লেফট উইঙ্গার মামুন বাবু, মোহামেডানের আনোয়ার, স্ট্রাইকার এনামুল হক, শাহানুর রহমান রনি, বয়সভিত্তিক ফুটবলে খেলা মোস্তাফিজুর রহমান, জালাল উদ্দিন, পিন্টু কুমার দাস, মলয় চন্দ্র বর্মণ, এনামুল হক শরিফ, মোহামেডানে খেলা আরাফাত রনি, আব্দুল বাতেন কোমল, চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলা আসাদুর রহমান।

কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মামুন বাবু সবচেয়ে সিনিয়র সাবেক ফুটবলার। ১৯৮৬’র এশিয়ান গেমস ফুটবলে খেলেছেন তিনি। ১৯৮৮তে শেষ বার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ান মামুন বাবু। ঢাকার ফুটবল লিগ ছাড়াও চট্টগ্রামে মোহামেডান, আবাহনী, কাস্টমসে খেলেছেন। শিরোপাও পেয়েছিলেন।

দুর্ভাগ্যবশত ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। পরে এই তারকা ফুটবলার দেশের স্বনামধন্য এক প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এখন অন্য একটি কোম্পানিতে চাকরিরত অবস্থায় ফুটবল নিয়ে কাজ করতে এসেছেন। কোর্স করে বুঝতে পারছেন ফুটবল খেলা আর কোচিং করানোয় অনেক পার্থক্য। ১০ চক্কর দিইয়ে কোচদের অনুশীলন করানোর দিন শেষ।

মামুন বাবু বললেন, ‘বিজ্ঞানসম্মত কোচিং না করালে ফুটবল এগোতে পারবে না। এসব কারণে কোচ মারুফ, মিন্টুরা আলাদা একটা জায়গায় অবস্থান করছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি কোচিং করছি ফুটবল প্যাশন থেকে। ফুটবলে একাডেমি হলে সেখানে আমার জ্ঞান কাজে লাগাতে পারব। খেলোয়াড় তৈরির জন্য পল স্মলিকে দিয়ে বাফুফে যে উদ্যোগ নিয়েছে এটা ফুটবলের মঙ্গল বয়ে আনবে।’