নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
আউশ, আমন, বোরো ও রবিশস্য উত্পাদনে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা খাদ্য জোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। চলতি রবি মওসুমে টমেটোর ব্যাপক চাষাবাদ এবং বাম্পার ফলন হয়েছে। টমেটো, বেগুন, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ শাকসবজি চাষাবাদে কৃষকদের উত্সাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। তবে উত্পাদনের পর দাম ভালো না থাকায় অনেকেই নামেমাত্র মূল্যে উত্পাদিত সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে এসব কৃষক লাভের মুখ দেখতে পান না বলে অভিযোগ তুলেছেন। কৃষিপ্রবণ এই উপজেলায় একটি সংরক্ষণাগার স্থাপিত হলে চাষি পর্যায়ে এই সমস্যা কাটিয়ে লাভবান ও কৃষি উত্পাদনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মওসুমে এ পর্যন্ত ২৫০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। মোট রবিশস্য চাষাবাদ হয়েছে ১৫শ হেক্টর জমি। তবে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে কেউ কেউ বারো মাসও টমেটো চাষাবাদ করেন। শীত মৌসুম আসার আগেও ৩০ থেকে ৫০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে গ্রাফটিং টমেটোর চাষাবাদ করা হয়। এছাড়াও বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, শিম, মূলাসহ শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। জেলার মধ্যে কৃষি উত্পাদনে এ উপজেলা ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে। উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কমবেশি স্থানে রবিশস্য উত্পাদন হয়। তবে আদমপুর, মাধবপুর ও আলীনগর ইউনিয়নে অধিক পরিমাণে শাক-সবজি চাষাবাদ হয়। এসব ইউনিয়নে সরিষারও আবাদ করা হয়। তবে সময় মতো কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেয়ে নামেমাত্র মূল্যে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন।
কৃষক মোবাশ্বির আলী, ব্রজেন্দ্র মোহন সিংহ, মানিক মিয়া বলেন, ইতোমধ্যে যারা টমেটো বাজারজাত করছেন তারা কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। তা ছাড়া কয়েকদিন পর যারা টমেটো বাজারজাত করবেন তারা সেভাবে লাভবান হতে পারবেন না। গাছে গাছে এখন টমেটো, বেগুন ধরতে শুরু করেছে। সেগুলো বাজারে তোলার পর দাম একেবারেই কমে যায়। কৃষকরা বলেন, টমেটো, বেগুন, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সরিষা-সহ শীতকালীন সকল শাক-সবজির চাষাবাদ বেড়েছে। তবে সময় মতো ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। ফলে সকল দিক বিবেচনা করে কৃষকদের লাভের সুযোগ থাকে না এবং সেভাবে লাভবান হওয়া যায় না। এই উপজেলায় একটি সংরক্ষণাগার থাকলে দাম কমে গেলে সেখানে রেখেও পরে বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল।
কৃষকরা বলেন, এ উপজেলায় কৃষকদের সুবিধার্থে একটি সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। অপরদিকে সরিষা প্রক্রিয়াজাতকরণে একটি কারখানা থাকলে চাষিদের জন্য অধিকতর সুবিধা বয়ে আনত। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানানো হলেও এব্যাপারে কারো নজর নেই। খাদ্য জোগানে এই অঞ্চলে কৃষি উত্পাদনে সংরক্ষণাগার, সরিষার কারখানা দ্রুত স্থাপনে সরকারের নিকট তারা জোর দাবি জানান। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, টমেটোসহ রবিশস্যের জন্য কমলগঞ্জ ব্যাপক পরিচিত। এসব সবজির ভালো চাষাবাদ ও উত্পাদন হচ্ছে। তবে এখানে একটি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার থাকলে সেটি কৃষকদের জন্য আরও ভালো হতো এবং কৃষকরা বিপুল উত্সাহ নিয়ে কৃষিতে অধিকতর মনোযোগী হয়ে উঠতেন।