ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বেচাবিক্রি এখনো জমে ওঠেনি। দোকানিরা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। টুকটাক বিক্রিও করছেন। এখন যারা মেলায় আসছেন, তাদের বেশির ভাগই ঘোরাঘুরি করছেন। প্রয়োজনীয় পণ্য খুঁজতে এক প্যাভিলিয়ন থেকে অন্য প্যাভিলিয়নে ছুটে যাচ্ছেন। ঘুরে ঘুরে পণ্যের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, গুণগত মান ও দামের যাচাই-বাছাই করছেন। অনেকে আবার দর কষাকষি করছেন। দরে দামে মিলে গেলে কেউ কেউ কিনেও নিচ্ছেন। গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গুলশান থেকে সপরিবারে মেলায় আসা আরিফা হক জানান, প্রতিবছরই মেলার শুরুর দিকে একবার এসে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো ঘুরে ঘুরে দেখি। কোথায় কি পাওয়া যায়, কোন পণ্যের কেমন দাম, কি ধরনের সুবিধা আছে ও গুণগত মানের যাচাই-বাছাই করি। এরপর শেষের দিকে এসে কিনে নিয়ে যাই। আজকেও (রবিবার) ঘুরে ঘুরে দেখছি। পছন্দ হলে পরে এসে নিয়ে যাবো।
মেলায় ঘুরে দেখা যায়, আগত ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্যাভিলিয়ন ও স্টল দৃষ্টিনন্দন করে সাজিয়েছে। খাবার দোকানগুলোকে ঘিরে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা দেখা গেছে। শিশুদের নিয়ে বিনোদন স্পটগুলোতে ঘুরছেন অভিভাবকরা।
বিক্রেতারা জানান, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বেচা-কেনা জমে উঠবে। তবে মেলার শুরুর দিকে প্রতিবছরই বেচা-কেনা কমই হয়। এবারের মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬০৬টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৫৯টি, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৯টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ছয়টি, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৩টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৬টি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন ৯টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৯টি, প্রিমিয়ার স্টল ৬৮টি, বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল ১৭টি, সাধারণ স্টল ২৯৫টি, ফুড স্টল ৩০টি ও রেস্তোরাঁ দুটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মেলা উদ্বোধনের পরপরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের স্টলে পণ্য বিক্রি শুরু করে দেয়। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালী সামগ্রী, পোশাক, প্রসাধনী, আসবাবপত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ব্র্যান্ডের স্টলগুলোর দিকে ছুটছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলোও মেলা উপলক্ষে নানা ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছে। বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কিছু ছোট প্রতিষ্ঠানও তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি শুরু করেছে। তবে গতকাল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি ছিল নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে।