ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিসিকের পাঁচ দিনব্যাপী হেমন্ত মেলা ও ত্রৈমাসিক কারুশিল্প প্রদর্শনী গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। বিসিকের নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের উত্পাদিত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ক্রেতাসাধারণের মাঝে পরিচিতি ও বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন ধরনের পোশাক, নকশিকাঁথা, তাঁতের ও জামদানি শাড়ি, পাটজাত হস্তশিল্প, আধুনিক পদ্ধতিতে উত্পাদিত মধু, খাদ্যজাত সামগ্রীসহ হস্ত ও কুটির শিল্পজাত পণ্যের বিপুল সমারোহ ঘটেছে। মেলা উপলক্ষে জয়নুল আবেদিন প্রদর্শনকক্ষে কারুশিল্পীদের উত্পাদিত পণ্যসামগ্রী নিয়ে চলছে কারুশিল্প প্রদর্শনী। মেলায় বিভিন্ন ধরনের হস্ত ও কুটির শিল্পপণ্যের ৬০টি স্টল স্থান পেয়েছে।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মতিঝিল প্রধান কার্যালয় চত্বরে সংস্থার চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহম্মদ ইফতিখার এ মেলা ও প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের পরিচালক (নকশা ও বিপণন) মো. মাহবুবুর রহমান। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান নকশাবিদ মো. রাহাত উদ্দিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিকের পরিচালক পর্ষদের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মেলায় অংশগ্রহণকারী কারুশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, বিসিক অন্যান্য কাজের পাশাপাশি নকশা কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্লক প্রিন্ট, বাটিক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, পুতুল তৈরি, প্যাকেজিং, বাঁশ-বেতের কাজ, পাটজাত হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, ধাতব শিল্প, মৃিশল্প, বুনন শিল্প ও ফ্যাশন ডিজাইন ইত্যাদি ১২টি ট্রেডে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৪১৫ জন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া এ যাবত্ নকশা উদ্ভাবন ও নমুনা বিতরণ ৩৩ হাজার ৪২১টি, মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন ১৭৩টি, শ্রেষ্ঠ ও দক্ষ কারুশিল্পী পুরস্কার প্রদান ২৮৫ জনকে এবং ত্রৈমাসিক মেলার আয়োজন করা হয়েছে ৬৩টি।
পাঁচ দিনব্যাপী হেমন্ত মেলা ও ত্রৈমাসিক কারুশিল্প প্রদর্শনী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।