রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো চালু করতে পারেনি ইন্টারনেট ব্যাংকিং

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন শতভাগ অনলাইনভিত্তিক। তবে এসব ব্যাংকের কোনোটিই ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যাংকিং শুরু করতে পারেনি। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকের প্রায় সবগুলোতেই এ ব্যাংকিং রয়েছে। ফলে দিন দিন প্রযুক্তিভিত্তিক এ ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এখনো পর্যন্ত এ ব্যাংকিং শুরু করতে না পারার পেছনে বাস্তবভিত্তিক কারণ রয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারের মত গ্রাহকের অভাবে এ ব্যাংকিংয়ের চাহিদা কম থাকা এবং অন্যদিকে ব্যাংকের এ বিষয়ে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল না থাকাকেই দায়ী করছেন তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এর উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংকের মোট তিন হাজার ৭২১টি শাখা রয়েছে। এসব শাখায় সিবিএস (কোর ব্যাংকিং সলিউশন) এর আওতায় শতভাগ অনলাইন সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

গ্রাহকদের অনলাইন সুবিধা দিতে বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনলাইন সেবা একটি ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম। রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহে দক্ষ জনবলের অভাব ও শাখার সংখ্যা বেশি হওয়ায় দ্রুত অনলাইন প্রযুক্তি গ্রহণে সক্ষম হচ্ছে না। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের শাখা শহরকেন্দ্রিক হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শাখা পল্লি­ এলাকায় বেশি। গ্রামে হওয়ায় গ্রাহকের পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মকর্তারাও তুলনামূলক কম প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৫৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৪০টিতে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা চালু রয়েছে। দিন দিন অনলাইনে লেনদেনের এ ব্যাংকিং সেবা জনপ্রিয় হচ্ছে। ইতোমধ্যে এর গ্রাহক সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরটিজিএস-এর মাধ্যমে। নিরাপত্তা ইস্যুতে এখনও ইন্টারনেট ব্যাংকিং শুরু করেনি এ ব্যাংক। এ বিষয়ে একটি পর্যালোচনা করা হলেও কবে নাগাদ এর কার্যক্রম শুরু করা হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। ইন্টারনেট ব্যাংকিং শুরু করতে পারলে ব্যাংকগুলোর মোবাইল ব্যাংকিং করা সহজ হবে। অনেক ব্যাংক ইতোমধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং জনপ্রিয় করতে মোবাইল অ্যাপসও তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা হিসাব খোলা, পরিবর্তন বা স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, মোবাইল টপআপ, এটিএম ও শাখার লোকেশন, মিনি ও বিস্তারিত স্টেটমেন্ট, লেনদেনের সার্বিক বিবরণী, ঋণসংক্রান্ত তথ্য, ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ, ব্যালান্স, বকেয়া দেনার হিসাব ও পরিশোধ সীমা প্রভৃতি জানতে পারছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে প্রথম শতভাগ অনলাইন হয় রূপালী ব্যাংকের। ইন্টারনেট ব্যাংকিং শুরু করা বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান প্রধান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, চলতি বছর থেকেই আমরা ইন্টারনেট ব্যাংকিং শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি। এ বিষয়ে আমাদের বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য আমরা টেবিল ওয়ার্কও ইতিমধ্যেই শেষ করেছি। প্রথমে পাইলটভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু করে এরপর পুরোদমে এ ব্যাংকিংয়ে যাব। তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পদক্ষেপ হিসাবে আমরা ইতোমধ্যেই শিওর ক্যাশের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং শুরু করেছি।

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামস-উল-ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংকে হতদরিদ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহক এখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়নি। তবে বড় গ্রাহকদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং শুরু করার চিন্তা-ভাবনা আছে। কবে নাগাদ সেটা শুরু হবে তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। অগ্রণী ব্যাংকের এমডি বলেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের আগে মোবাইল ব্যাংকিং শুরু করা হবে।