প্রথমে প্রাইভেটকারে ধাক্কা ও পরে ট্রাকের জানালা ধরে ঝুলে থাকা ছোট পর্দার অভিনেত্রী অহনাকে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ট্রাক চালক সুমন মিয়া। গতকাল রবিবার জবানবন্দির পর সুমনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান।
ঘটনার পরপরই অহনা উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অহনা অভিযোগ করেন, গত ৯ জানুয়ারি পুরান ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজে ড্রাইভ করে উত্তরার বাসায় ফিরছিলেন অহনা। উত্তরা লেক ড্রাইভ রোডের ৭ নম্বর সেক্টরে পৌঁছলে রাত সোয়া ৩টার দিকে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক অহনার গাড়িকে ধাক্কা দেয়। অহনা উত্তেজিত হয়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে ট্রাক চালককে ট্রাক থেকে নামতে বলেন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে চালক ট্রাক সামনে নিয়ে আবার পেছনের গিয়ারে দিয়ে অহনার গাড়িকে আবারও ধাক্কা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অহনা ট্রাক চালকের দরজায় উঠে তাকে নামতে বলেন। চালক তার কথায় কর্ণপাত না করে গাড়ি টান দেয়। অহনা তখন চালকের জানালা ধরে ঝুলতে থাকেন। ট্রাকটি ১২ নম্বর সেক্টরে গিয়ে অহনাকে ফেলে দিতে জোরে বাঁক নিতে গিয়ে বাম দিকে উল্টে পড়ে যায়। অহনা ছিটকে গিয়ে পাথরকুচির ওপর পড়েন। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ট্রাক চালক তার জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার বর্ণনা করে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন অহনার বোন ইয়াসমিন মিতু। পরে পুলিশ চালক সুমনকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (উপ-পরিদর্শক) হুমায়ুন কবীর আসামি সুমনকে গতকাল আদালতে হাজির করেন। গত শুক্রবার আশুলিয়া থেকে চালকের সহকারী মো. রোহানকে গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরদিন শনিবার রোহানও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওইদিন সকালে সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।