কর্ণফুলী সেতু সড়কে যানজট, ভোগান্তি

চট্টগ্রামের শাহ আমানত সংযোগ সড়কের রাহাত্তার পুল নামক স্থানে যানজটের কারণে কয়েক ঘন্টা যাত্রীদের আটকে থাকতে হচ্ছে। চতুর্মুখী যান চলাচলের এই স্থানে মাত্র ২ জন ট্রাফিক কনস্টেবল নিয়োজিত থাকেন। ফলে তাদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে ট্রাফিক পুলিশ বা সড়ক নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন উদ্যোগ না থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এক কিলোমিটার দূরে সড়কের কালামিয়া বাজার এবং বহদ্দার বাড়ি পুকুর পাড়ে একই ধরনের যানজট পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর যাতায়াতে একমাত্র সড়ক। দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বাসিন্দারা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কের ব্যস্ততা দ্বিগুণ বেড়েছে। প্রতিদিন শতশত কর্মজীবী নারী-পুরুষ এই পথে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। তারা যানজটের কবলে পড়ে নিত্য ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

জানা গেছে, অপরিকল্পিত সড়ক উন্নয়ন কাজ ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় কর্ণফুলী সেতু সংযোগ সড়কটিতে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যান চলাচলে প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা না করায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারের তৈরি করা বিকল্প সড়ক দিয়ে বড় আকৃতির একটি গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। অথচ প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে শত শত বড় আকৃতির বাস, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক চলাচল করছে। এছাড়া রাহাত্তার পুলে একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো কাজ এখনো শেষ হয়নি। আন্ডারপাস চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পর এই স্থানে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। এখানে ২ জন ট্রাফিক কনস্টেবল দায়িত্বে থাকেন। অথচ চতুর্মুখী যান চলাচলের এই স্থানে কমপক্ষে ৫/৬ জন ট্রাফিক কনস্টেবলের প্রয়োজন। এছাড়া কোন ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ট্রাফিক ইনস্পেক্টরকে দেখা যায় না।

যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিরক্ত হয়ে অনেক সময় গাড়ির স্টাফদের যানজট নিরসন করতে দেখা যায়। ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিকল্প সড়ক অত্যন্ত সরু হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুতের খুঁটি এখনো সরানো হয়নি। এতে বড় গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া সড়ক নির্মাণকালীন যানজট নিরসনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জনবল নিয়োগের কথা ছিল। কিন্তু কোন জনবল দিচ্ছে না। ট্রাফিক বিভাগেরও স্থায়ী জনবলের সংকট রয়েছে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালের মার্চে সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাশে বহদ্দারহাট পর্যন্ত ৬ লাইনের ৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ কাজ চলছে। আর  সেতুর দক্ষিণ পাশে ৪ লাইনের ৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। ২৭০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবু সাদাত সায়েম ইত্তেফাককে বলেন, এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ না হলেও আন্ডারপাস খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাফিক পুলিশ একটু সক্রিয় ও গাড়িচালকরা সচেতন হলে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে।