সংলাপে সাড়া প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের আহ্বানে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল রবিবার এ ইঙ্গিত দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চার জেলার দলীয় নেতাদের সঙ্গে যৌথসভার আগে সাংবাদিকদের তিনি জানান, নির্বাচনের আগে যেসব দল এবং জোটের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদেরকে আবারও চিঠি দিয়ে সংলাপে ডাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংলাপে আসলে তাদের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সংলাপে বসে বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানাতে পারি। তাদের সাথে সম্পর্কটা রিনিউ করতে পারি।’ কারা আসবে এই সংলাপে, একজন সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সকল রাজনৈতিক দল গণভবনে আমন্ত্রিত। সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে সংলাপ করেছিলেন তাদেরকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

তবে কবে নাগাদ এই সংলাপ হতে পারে সে বিষয়টি জানাননি ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হবে। সেটা খুব শিগগির জানিয়ে দেওয়া হবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তখন ঐক্যফ্রন্ট-যুক্তফ্রন্টসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গণভবনে সংলাপ হয়েছিল। এখন নির্বাচন শেষ হয়েছে, আমাদের নেত্রী শনিবার দলের ওয়ার্কিং কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠকে বলেছেন যে যাদের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাবেন। তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হবে।’

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের চিঠি পেয়ে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসেন। পরে আরো বেশ কিছু দল ও জোটের সঙ্গেও এক টেবিলে বসেন তিনি। আর এই সংলাপ শেষে ঘোষণা হয় নির্বাচনের তফসিল এবং তাতে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপির জোট। ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭, জাপা ২২, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১, জাসদ ২, বিকল্পধারা ২, তরিকত ফেডারেশন ২ এবং বাংলাদেশ জাসদ ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৮টি আসন। এ ভোটকে কারচুপির ভোট হিসেবে আখ্যায়িত করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যফ্রন্ট ইতিমধ্যে আবারো জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে জামায়াত নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপি জামায়াতের ২২ জনকে ধানের শীষ প্রতীক দেবে এটা আমাদের আগে জানানো হয়নি। বিএনপিকে বলবো, জামায়াতকে ছাড়তে, এ ব্যাপারে আমরা একটা সুরাহা চাই। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জামায়াত মানে বিএনপি, বিএনপি মানে জামায়াত। কামাল হোসেন সাহেব জেনেশুনে কেন ভুল করলেন, সেই ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে। কামাল হোসেনের বক্তব্য এখানে আমরা স্ববিরোধী বলে মনে করছি।’

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তাতে আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিপক্ষকে আমরা কখনো দুর্বল মনে করি না। বিএনপি বা তাদের ফ্রন্ট নির্বাচনে যদি আসে, সেক্ষেত্রে তাদেরকে স্বাগত জানাই। তারা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এ রকমই আশা করব।

আগামী ১৯ জানুয়ারি বিজয় সমাবেশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমরা বিজয় উদযাপন করতে চাই। মহাসমাবেশে বিশাল উপস্থিতি থাকবে বলে আমরা আশা করছি। এই মহাসমাবেশে আমাদের দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী দিনে দল ও সরকার কিভাবে চলবে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও ঢাকার পাশের জেলাগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলীয় এমপি ও  জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় আগামী ১৯ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এই সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে এ যৌথসভার আয়োজন করা হয়।