লড়াইটা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স-চিটাগং ভাইকিংসের। লড়াইটা থিসারা পেরেরা-মুশফিকুর রহিমের। গতকাল বিপিএলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ পর্যন্ত মুশফিকের কীর্তিতে কুমিল্লার বিরুদ্ধে চার উইকেটে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। দলকে জয় থেকে ৭ রান দূরে রেখে আউট হয়েছিলেন মুশফিক। পরে শেষ ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে চিটাগংয়ের অসামান্য জয় নিশ্চিত করেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক (৯*)।
কুমিল্লার ১৮৫ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে গিয়ে চিটাগং অধিনায়ক মুশফিক খেলেছেন বীরোচিত ইনিংস। ৪১ বলে ৭৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। যেখানে সাতটি চার ও চারটি ছক্কা ছিল। ১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান তোলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চিটাগং। দলের পক্ষে শাহজাদ ৪৬, ডেলপোর্ট ১৩, নাজিবউল্লাহ জাদরান ১৩, মোসাদ্দেক ১২ রান করেন। সাইফউদ্দিন নেন তিন উইকেট।
এক সপ্তাহ আগে নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছিল থিসারা পেরেরা ব্যাট। ৭৪ বলে ১৪০ রানের ইনিংসে সেদিন শ্রীলঙ্কাকে জেতাতে পারেননি। তবে নিউজিল্যান্ড থেকে ঠিকই বিস্ফোরক ব্যাটিংটা ঢাকায় বয়ে এনেছেন এই লঙ্কান অলরাউন্ডার। সকালে ঢাকায় এসে কয়েক ঘন্টার বিশ্রামে গতকাল বিকেলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে বিপিএলের ম্যাচ খেলতে নেমে যান তিনি।
কীসের ভ্রমণক্লান্তি! সবকিছুকে যেন ব্যাটের তোড়ে উড়িয়ে দিলেন। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে চিটাগং ভাইকিংসের বোলারদের রীতিমতো কচুকাটা করেছেন থিসারা পেরেরা। তার আগ্নেয় প্রহারে ঢিমে-তালে এগিয়ে চলা কুমিল্লা-চিটাগংয়ের ম্যাচটা হঠাত্ করেই উত্তাপ ফিরে পেল। শহীদ আফ্রিদির বিদায়ের পর ১৪তম ওভারে নেমে ২৬ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের অতিমানবীয় ইনিংস খেলেছেন থিসারা। তিন চারের সঙ্গে আট ছক্কায় সাজানো ছিল ইনিংসটি।
তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই কুমিল্লা পাঁচ উইকেটে ১৮৪ রানের বড় স্কোর গড়ে। থিসারা ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। ষষ্ঠ উইকেটে সাইফউদ্দিনের সঙ্গে ৯৮ রানের জুটি গড়েন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ার আগে এভিন লুইস ৩৮, সাইফউদ্দিন অপরাজিত ২৬, ইমরুল ২৪ রান করেছিলেন। চিটাগংয়ের খালেদ নেন তিন উইকেট।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী রংপুরকে ৫ রানে হারায় রাজশাহী। আগে ব্যাট করে রাজশাহী ৮ উইকেটে ১৩৫ রান তুলেছিল। জবাবে শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের অসাধারণ বোলিংয়ে ৬ উইকেটে ১৩০ রানে আটকে যায় রংপুর রাইডার্স।
রাজশাহীর টপ অর্ডার থেকে তেমন রান আসেনি। ওপেন করতে নামা অধিনায়ক মিরাজ কোনো রান করতে পারেননি। মুমিনুল ১৪ ও সৌম্য ১৮ রান করেন। এরপর দলকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া শুরু করেন মোহাম্মদ হাফিজ ও জাকির হাসান। হাফিজ ২৬ রান করে আউট হন। আর জাকির ৩৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন।
জবাব দিতে নামা রংপুরের হয়ে গেইলের সাথে ইনিংস শুরু করেছিলেন মাশরাফি। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মিরাজের মতো রংপুর অধিনায়ক মাশরাফিও রান করতে পারেননি। গেইল ২৩ রান করে ফেরেন। মিঠুন করেন ৩০ রান। আর শেষ ওভার পর্যন্ত ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন রিলি রুশো।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের দরকার ছিল ৯ রান। প্রথম বলে ১টি রান দেওয়ার পর টানা ৩ বল ডট দিয়ে মুস্তাফিজ নিশ্চিত করে ফেললেন জয়। শেষ ২ বলে দরকার ছিল ৮ রান। সেখানেও মুস্তাফিজ ব্যয় করলেন মাত্র ২ রান। ব্যাটে-বলের লড়াইয়ে মুস্তাফিজের জয় হলো।