খুলনা মহানগরীর ময়ূর নদীসহ ২২ খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও নগরীর ড্রেনেজ সংস্কারসহ ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। সোমবার সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে আগামী ২১ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও সিটি মেয়রের নিকট স্মারকলিপি প্রদান, ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান ও ২৩ জানুয়ারি বিভাগীয় কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ জামান লিখিত বক্তব্যে খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বর্ষার সময় পাম্প হাউজের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন, নগরীর সকল সরকারি-বেসরকারি পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণ, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত-করণ ও মশক নিধন, শত বছরের পুরাতন বড় বাজারকে আধুনিকায়নের আওতায় আনা, রেলওয়ের অব্যবহৃত জমির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, যানজটমুক্ত খুলনা নগরী গড়ে তোলা, পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নয়নসহ যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে রূপসা ও ভৈরব নদীর তীর ঘেঁষে শহর রক্ষা বাঁধসহ পরিকল্পিত রিভার ভিউ রোড ও দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ, নগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে জোড়াগেট-ফুলবাড়ীগেট-শিরোমনি-ফুলতলা সড়ক ডিভাইডারসহ ৬ লেনে উন্নতকরণ এবং খুলনা রেলস্টেশন-পাওয়ার হাউজ মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত শেরে বাংলা রোড ৬ লেনে উন্নীতকরণের দাবি জানান।
আরো পড়ুন: শরীয়তপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ ডাকাত সদস্য নিহত
সংবাদ সম্মেলনে শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই খুলনা মহানগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মূলত ময়ূর নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালসমূহের অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া এই ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণ।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম দফাই ছিল খুলনা মহানগরীর সকল খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার করে নগরীকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা। আমরা অবিলম্বে সিটি মেয়রের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন, অধ্যক্ষ জাফর ইমাম, ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক, শাহীন জামান পন, মনিরুজ্জামান রহিম, অধ্যাপক আবুল বাশারসহ উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
ইত্তেফাক/বিএএফ