ই-কমার্সে বিদেশি বিনিয়োগে কড়াকড়ি

শাওমিসহ অনলাইন ব্র্যান্ডগুলো হারাতে বসেছে বাজার

অনলাইন ব্যবসায় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)-এ  কাড়াকড়ি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। হঠাত্ তাদের এমন সিদ্ধান্তে বিভ্রান্ত ওয়ালমার্ট, অ্যামাজন-সহ একাধিক বহুজাতিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, যারা ভারতে ব্যবসা করার জন্য এ পর্যন্ত মোটা অর্থ বিনিয়োগ করে বসে আছে। তবে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়মের  আওতায় আনার প্রচেষ্টায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল। যদি সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করা হয় তাহলে বিভিন্ন পণ্যের উপর ছাড় ও ক্যাশব্যাক অফার বন্ধ হয়ে যাবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এফডিআই নীতির কড়াকড়ির জেরে বড় ধাক্কা খেল ই-কমার্স ব্যবসা। এই নীতিতে উদ্বেগে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীরা। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চাকরিক্ষেত্রেও। বিষয়টি গ্রাহকদের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের, কারণ যদি সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করা হয়, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন পণ্যের উপর ছাড় ও ক্যাশব্যাক অফার বন্ধ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে অ্যামাজন ইন্ডিয়ার একজন শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন,‘একদিকে আপনারা বিদেশি বিনিয়োগ চাইছেন, অন্যদিকে রাতারাতি আলোচনা ছাড়াই আচমকা নীতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ অন্যদিকে কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স- এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘অনলাইন ও অফলাইন বিক্রেতারা উভয়েই এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছভাবে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।’

মেধা কুমার নামে বত্রিশ বছর বয়সী একজন গ্রাহক জানিয়েছেন, ‘এমন বেশ কিছু ব্র্যান্ড আছে, যাদের অনলাইন বাজার ছাড়া কোথাও পাওয়া যায় না। অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া বাত্সরিক ছাড়ের অপেক্ষায় থাকি সারা বছর। তার জন্য টাকাও জমাই। এবার সেই পরিকল্পনা মাটি হবে।’  সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, এফডিআই এর কঠোর নীতিমালায় ভারতে স্যামসাংয়ের  জন্য সুখবর কারণ, দেশটিতে চীন ব্র্যান্ড শাওমির তুলনায় দক্ষীণ কোরিয়ার ব্র্যান্ড স্যামসাং অফলাইন মার্কেটে এগিয়ে রয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট-এর  আইওটি  বিষয়ক অংশিদার ও টেকনোলজি  বিষয় বাজার গবেষক নীল সাহা বলেন, ‘এটি স্যামসাংয়ের জন্য দারুন সুযোগ। দেশটির মোট মোবাইল মার্কেট শেয়ারের ৭০% আসে অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকে।’

সম্প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার অনলাইন মার্কেট প্লেসে একচেটিয়া পণ্য বিক্রির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে একজন ভেন্ডর এককভাবে ই-কমার্সে সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে।  এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, নতুন এই নীতিমালাতে শাওমি, ওয়ানপ্লাস, হুয়াওয়ের ওনার এবং রেডমি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।  এই প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট এর মতো ই-কমার্স মার্কেট প্লেসের উপর নির্ভরশীল।

২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে অনলাইনের মাধ্যমে স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে ৩৮%:২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের স্মার্টফোনের বাজার ১৫ মিলিয়ন ইউনিট অতিক্রম করেছে। ক্রমবর্ধমান বাজার ২৫%হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে  এবং আশা করা হচ্ছে এই প্রবৃদ্ধির হার ৩৮% এসে পৌছবে। স্মার্টফোনের বাজার প্রবৃদ্ধির হার প্রতি প্রান্তিকে ৩২%হারে বাড়ছে। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে, অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলোর মধ্যে ফ্লিপকার্ড, অ্যামাজন পেটিএম মল, এমআই ডটকম, অনপ্লাস ডটকম, তাদের মোট বিক্রির ৩৫% স্মার্টফোনই ভারতে বিক্রি করেছে। বছরে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৫%। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে ৯% এবং বাকি ৯১% স্মার্টফোন বিক্রি হয় ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের মতো অনলাইন মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে। ৫৪% মার্কেট দখল করে শাওমি অনেক এগিয়ে রয়েছে। এর পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে স্যামসাং। তাদের মার্কেট শেয়ার ১৩% এবং হুয়াওয়ে দখল করেছে মাত্র ৭%।

অনলাইন চ্যানেলে বিক্রিতে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোর অবস্থান—

ভারতে স্বাধীনভাবে খুচরা বিক্রি ও অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে শাওমি ও স্যামসাংয়ের মতো প্রভাবশালী কোম্পানির অংশগ্রহণে অফলাইনে স্মার্টফোন বিক্রি কম হয়েছে। ২০১৮ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ৬২% স্মার্টফোন চ্যানেল পার্টনারদের কাছে হস্তান্তর করে। একই বছরের প্রথম প্রান্তিকে আসুস ভারতে শতভাগ অফলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ছিল। কয়েকমাসের মধ্যে তারা  অনলাইন কার্যক্রম চালু করে এবং তার তাদের কার্যক্রম অনলাইনেই পরিচালনা করতে থাকে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আসুসের বিক্রি বেড়েছে তিনগুণ। অন্যান্য খুচরা বিক্রেতারাও স্মার্টফোন বিক্রিতে এই নীতি অনুসরণ করে চলেছে। ক্যানালিস রিসার্চ ম্যানেজার রুশভ  বলেন, ‘ভারতের বাজারে বিভিন্ন স্মার্টফোন কোম্পানি এসেছে এবং অনলাইনে তাদের পণ্য বিক্রির মধ্যদিয়ে স্মার্টফোন বাজারে বিশাল পরিবর্তন এসেছে।’ যদিও শাওমির কর্তৃত্বকে হ্রাস করা বেশ কঠিন। তারা শীর্ষ স্থানীয় ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশিদারীত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং তাদের অবস্থান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে।

                                               সূত্র : gadgetsnow.com & canalys.com