পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেরালার শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশকারী দুই নারী

ভারতের কেরালায় আলোচিত শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের পর থেক কট্টরপন্থীদের ভয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দুই নারী। কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই মন্দিরে প্রাপ্তবয়স্ক বা ঋতুমতি নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

গত ২ জানুয়ারি কালো লম্বা ঢিলা পোশাক পরা বিন্দু আম্মিনি ও কনকদুর্গা  অবরোধ এড়িয়ে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করেন। তারা চলে যাওয়ার পর মন্দির পবিত্র করতে ধুয়ে ফেলে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়।

কট্টরপন্থী হিন্দুরা তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। এই হুমকির কারণে তারা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

কট্টরপন্থী হিন্দুদের ভয়ে এরই মধ্যে তাদেরকে ১০টির বেশি স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। বিভিন্ন বাড়িতে তারা আশ্রয় নিচ্ছেন।

একটি গোপন স্থান থেকে দেয়া সাক্ষাতকারে তারা বলেন, কিছুদিন পরই তাদের প্রকাশ্যে বের হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা করছেন।

তাদের এই কাজের জন্য তারা মোটেই অনুতপ্ত নন। বরং সাহসিকতার জন্য নারী সংগঠনগুলোর কাছে তারা বীরে পরিণত হয়েছেন। তবে কট্টরপন্থী হিন্দুদের ঘৃণার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

সরকারি কর্মী কনকদুর্গা (৩৯)বলেন, ‘আমি শুধু আমার প্রার্থনা করার অধিকার চাই। এটা লিঙ্গ সমতার পথে আরো একটি ধাপ।’

আরও পড়ুনঃ নওয়াজ শরিফের সাজা স্থগিত

তিনি বলেন, ‘আমরা যেন নিরাপদে মন্দির থেকে বের হতে পারি পুলিশ তা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু তারপর আমরা আর তাদের সাহায্য পাইনি।’

শবরীমালা মন্দিরটি এখন ভারতীয় নারীদের জন্য সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ের নতুন তীর্থকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বিন্দু ও কনকদুর্গা বলেন, শুধুমাত্র চরমপন্থী হিন্দুরাই তাদের ক্ষতি করতে চায় বলে তাদের বিশ্বাস।

ঋতুমতী যে কোন নারীর জন্যে এই মন্দিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সকল নারীর জন্যে তা উন্মুক্ত করার পক্ষে রুল জারি করে।

ইত্তেফাক/টিএস