নন্দন

হলিউডের ‘কালো মুখোশ’

বিনোদন রিপোর্ট

 

বলিউড ও হলিউডের সঙ্গে একজায়গায় বেশ মিল রয়েছে। দুই ইন্ডাস্ট্রিই পুরুষতান্ত্রিক মনমানসিকতার ধারক। হলিউডে পুরুষ প্রধান্য রয়েছে-এই কথাটি স্বীকার করেছেন অনেক হলিউড পরিচালকও। এর একটি প্রমাণ, হলিউড চলচ্চিত্রে পুরুষ চরিত্রকে যতক্ষণ পর্দায় দেখা যায় নারীকে ততক্ষণ নয়। নির্মাতা হিসেবেও এখানে পুরুষেরই একচেটিয়া প্রাধান্য। এর মধ্যেও নারী নির্মাতারা কাজ করছেন, সাফল্যও পেয়েছেন অনেকে। তবুও হলিউডে নারীকেন্দ্রিক সিনেমার সংখ্যা একেবারেই কম। এই কমসংখ্যক নারীবাদি সিনেমার বেশিরভাগই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ধারকতাই প্রাধান্য পেয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়  ‘মাইল্ড রেড পিয়ার্স’ ও ‘জেজেবেল’ চলচ্চিত্র দুটোকে। এই দুটি সিনেমায় নারীর যে আত্মত্যাগকে তুলে ধরা হয়, তা প্রকৃত পক্ষে সমাজের প্রার্থিত আত্মত্যাগ। অর্থাত্ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীর কাছে যে আত্মত্যাগ প্রত্যাশা করে মূলত তাই এখানে তুলে ধরা হয়। হলিউডে ‘উইমেন ফিল্ম’ নামে একটি ক্যাটাগরি আছে-সে সিনেমাগুলোতে অনেক সময় দুই ধরনের নারীকে চিত্রায়িত করা হয়। একজন নম্র, ভদ্র, সরল। আরেকজন চতুর, বেপরোয়া বা খল। ‘ভালো’ নারী শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় সব দুঃখকষ্ট সহ্য করে। আর ‘খারাপ’ নারী শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। তার মানে সেই চিরন্তন লিলিয়ান ও ইভের কাহিনি।

তবে কিছু সিনেমা হলিউডেও নির্মিত হয়েছে যেখানে নারীর জীবন যুদ্ধকে প্রাধান্য পেয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কালো মুখোশকে উন্মেচন করা হয়েছে সেসব সিনেমায়। এমনি একটি সিনেমা ‘অ্যাকিউসড’। সিনেমায় গণধর্ষণের শিকার এক নারীর চরিত্রে রূপদান করেন হলিউড অভিনেত্রী জোডি ফস্টার। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কীভাবে ধর্ষণের শিকার নারীকেই পরোক্ষভাবে দায়ী করে এই অপরাধের জন্য তা সূক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জোডি ফস্টার অস্কার পেয়েছিলেন।

এছাড়া ‘পিস ভার্সেস পিস: ওমেন অন দ্য ফ্রন্টলাইন’, ‘বিয়ন্ড বিলিফ’, ‘সিডো’, ‘রিগ্রেট টু ইনফর্ম’, ‘দ্য লাইফ আই গট টু লিভ’ কয়েকটি তথ্যচিত্রের কথা উঠে আসে যখনই নারীবাদি সিনেমার কথা বরা হয়। এই বিকল্পধারার চলচ্চিত্রগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নারীর উপর সংঘটিত বৈষম্য ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।