উত্তরপ্রদেশের সব আসনে এককভাবে লড়বে কংগ্রেস

মায়াবতী-অখিলেশ জোট ঘোষণার একদিন পরেই লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে দলের রণকৌশল স্পষ্ট করলো কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন দল জানিয়েছে, রাজ্যের ৮০টি আসনেই এককভাবে লড়বে কংগ্রেস। আরো জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগে রাহুল নিজে কমপক্ষে ১৩টি জনসভা করবেন উত্তর-প্রদেশে।

‘গো-বলয়ের’ সব-চেয়ে বড় রাজ্যে এসপি-বিএসপি ও কংগ্রেস মিলে জোট হয় কি-না, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল প্রবল। কিন্তু শনিবার কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই মায়াবতী-অখিলেশ ওই রাজ্যে জোটের ঘোষণা করেন। তারপরেই দুবাই থেকে জোটের উদ্দেশ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে রাহুল জানান, ‘মায়াবতী-অখিলেশের জোটের প্রতি গভীর  শ্রদ্ধা রয়েছে। তারা নিজেদের মতো করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটাকে স্বাগত জানাই। ওই রাজ্যে আমরা আমাদের মতো করেই লড়াই করব।’ খবর আনন্দবাজার পত্রিকা

রাহুলের এ বার্তা আসার পরে আর দেরি করেনি কংগ্রেস নেতৃত্ব। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে গোলাম নবী আজাদ জানিয়ে দেন, রাজ্যের সব আসনেই এককভাবে লড়বে কংগ্রেস। কংগ্রেস সূত্রে বলা হয়েছে, রাজ্যের ৮০টি আসনকে মূলত ১৩টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ওই রাজ্যে ১৩টি সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাহুল। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রচার শুরু করবেন তিনি।  

এ দিকে প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত জোট না হওয়ায় বিজেপি কি ফায়দা পেতে চলেছে? অনেকেই মনে করছেন, ওই রাজ্যে বিজেপিবিরোধী ভোট এসপি, বিএসপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে ভাগ হয়ে গেলে বিজেপিরই লাভ হবে। কিন্তু কংগ্রেস সূত্রের মতে, রাহুলের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই এগোচ্ছেন মায়া ও অখিলেশ। কংগ্রেস একা ভোটে লড়লেও প্রধান লক্ষ্য হবে বিজেপিকে হারানো।

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোই যেখানে লক্ষ্য, তখন নীতিগতভাবে এসপি-বিএসপি জোটের বিরোধিতা করতে রাজি নন রাহুল। কংগ্রেসের পক্ষে উত্তরপ্রদেশে মাত্র চার-পাঁচটি আসনে লড়াও দলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সব আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কংগ্রেসকে। কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছেন, এতে দলীয় কর্মীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং উত্তরপ্রদেশে নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ খুঁজে পাবে দল, যা পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে সাহায্য করবে।