ইউরেনিয়াম আহরণে আন্তর্জাতিক সীমা মানবে না তেহরান
রয়টার্স ও এএফপি
ইরানে হামলা চালানোর জন্য হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা দল গত সপ্তাহে পেন্টাগনের কাছে বিকল্পসমূহ জানতে চেয়েছে। এদিকে ইউরেনিয়াম আহরণে আন্তর্জাতিক সীমা না মানার কথা বলেছে ইরান।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত গ্রিন জোনের ভেতরে তিনটি মর্টার গিয়ে পড়ে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বাগদাদের ওই গ্রিন জোনের ভেতরে। এ ঘটনার দুই দিন পর বসরায় মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে রকেট হামলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এনএসসি) পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানে স্বল্প পরিসরে হামলা চালাতে চাইছে। এতে আরো বলা হয়, এনএসসি ইরাক ও সিরিয়ায় হামলা চালানোর জন্যও আবেদন জানিয়েছে। এনএসসির এক বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরা রিকার্ডেল ইরাকে ওই হামলাকে ‘যুদ্ধাবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এর জবাবে পাল্টা হামলার আহ্বান জানান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলা বিষয় নিয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পেন্টাগন যে ছক কষেছে, তা এখনো হোয়াইট হাউসকে দেওয়া হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এমনকী, প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবিহিত কি-না, তাও বলা হয়নি।
এদিকে পারমাণবিক অস্ত্রের মূল উপাদান ইউরেনিয়াম আহরণে আন্তর্জাতিক সীমা মানবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পারমাণু কর্মসূচির প্রধান আলী আকবর সালেহি এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে তারা পারমাণবিক চুল্লির জন্য ২০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম আহরণ করবেন। তিনি বলেন, তারা পরমাণু বিজ্ঞান ও শিল্পে এমন অগ্রগতি অর্জন করেছেন যে নিজেরাই নতুন জ্বালানি তৈরির ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তারা এখন এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে ২০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম আহরণ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক রীতি এর চেয়ে অনেক কম বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম আহরণ সমর্থন করে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরান যে পারমাণবিক চুক্তি করে, এতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে সীমারেখা দেওয়া হয়েছে।