স্পোর্টস রিপোর্টার
ভাগ্য পাল্টালো না পাকিস্তানের। আবারো অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হলো সফরকারীদের। জোহানেসবার্গ টেস্ট শেষ হলো একদিন হাতে রেখেই। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১০৭ রানে হেরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল।
পাকিস্তানের সামনে ৩৮১ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় দিন কিছুটা হলেও স্বস্তিতেই শেষ করে পাকিস্তান। চতুর্থ দিন ৩ উইকেটে ১৫৩ রান নিয়ে খেলতে নামে সফরকারীরা। কিন্তু চতুর্থদিন প্রোটিয়া বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের বাকি ব্যাটসম্যানরা।
একই ওভারে ফিরে যান বাবর আজম আর সরফরাজকে। তাদের ফিরিয়েই তাণ্ডবের সূচনা করেন অলিভিয়ের। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ম্যাচ অনেকটাই নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। বেশ কিছুটা সময় শাদাব খান এক প্রান্ত আগলে রেখে হারের ব্যবধান কিছুটা হলেও কমিয়েছেন। রাবাদা ও অলিভিয়েরের তোপে বাকি ব্যাটসম্যানরা শুধুই আসা-যাওয়ার মধ্যে থেকেছেন।
মোহাম্মদ আব্বাস প্রান্ত বদল করতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস। প্রথম সেশনেই ২৭৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস। শাদাব খান ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন শুধু।
এই জয়ে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে টেস্ট র?্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অপরদিকে হোয়াইটওয়াশ হয়ে সাতে নেমে গেছে পাকিস্তান। পুরো সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করা অলিভিয়ের হন সিরিজ সেরা। আর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করা কুইন্টন ডি ককের হাতে উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
এই জোহানেসবার্গেই অধিনায়ক-উইকেটরক্ষক হিসেবে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সফরফরাজ আহমেদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট দশটি ক্যাচ ধরেন। টেস্টের ইতিহাসে এরআগে কোনো উইকেটকিপার দলকে নেতৃত্ব দিতে নেমে একই ম্যাচে দশটি ক্যাচ নেননি। এর আগে যৌথভাবে এই রেকর্ড ছিল ধোনি, গিলক্রিস্ট ও অ্যালেক স্টুয়ার্টের নামে। তিনজনেই দলকে নেতৃত্ব দিতে নেমে উইকেটের পেছনে ৮টি করে ক্যাচ ধরেছিলেন।
দুই ইনিংসেই সাউথ আফ্রিকার পাঁচজন করে ব্যাটসম্যান সরফরাজের গ্লাভসে জমা পড়েন। প্রথম ইনিংসে এইডেন মাকরাম, ডিন এলগার, জুবায়ের হামজা, টেম্বা বাভুমা ও রাবাদার ক্যাচ নেন পাকিস্তানি অধিনায়ক। দ্বিতীয় ইনিংসে এলগার, মার্করাম, হাশিম আমলা, বাভুমা ও অলিভিয়েরের ক্যাচ ধরেন তিনি।