নারী সাফ
স্পোর্টস রিপোর্টার
আগামী ১২-২২ মার্চ হতে যাওয়া নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এবার শিরোপাই লক্ষ্য বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ গেলবার ভারতে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল। হারলেও ফাইনালটিতে দেশের নারী ফুটবলারদের খেলা নজর কেড়েছিল। এবার নেপালে অনুষ্ঠিতব্য আসরটিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে।
সাফে বাংলাদেশের সামনে বড় বাধা হচ্ছে ভারত ও নেপাল। নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন রাখঢাক না করে জানালেন চ্যাম্পিয়ন হওয়া কঠিন। বাস্তবতা মানতে হবে। তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের সামনে রয়েছে ভারতের মতো শক্তিশালী দল। নারী ফুটবল তারা অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ঐতিহ্যবাহী দল। ভারতীয় খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞ এবং আমাদের খেলোয়াড়দের চেয়ে বয়সেও বেশি।’
নারী দলের সুবিদিত এই কোচ আরো বলেন, ‘আমাদের দেখুন তারা বয়সে অনেক কম। মাত্রই গড়ে উঠছে। তাদের দিয়ে আমি ভারতীয় খেলোয়াড়দের উড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করতে পারি না। আমাদের মেয়েরা ভালো খেলছে। কিন্তু বয়সেরও একটা ব্যাপার থাকে। শারীরিক সামর্থ্যের ব্যাপার থাকে। সেই পাল্লায় মাপলে এখনও ভারতের কাছে যেতে পারিনি। যেকারণে আগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা বলে দিতেও পারি না। ভারত ছাড়াও সাফের আরেক শক্তিশালী দল রয়েছে নেপাল।’ নেপাল প্রথম সাফে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে হারিয়েছিল। পাকিস্তানে ২০১৪ সালের সাফেও নেপালের কাছে সেমিফাইনালে হেরেছিল বাংলাদেশ। কোচ ছোটন তাই নেপালকে মাথায় রাখছেন। ছোটন বলছেন, ‘এখন মেয়েদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে যারা খেলছেন তারা বয়সে কম। এই মেয়েরা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। সাফে এখন ভারতকে নেপালকে যেভাবে দেখছি আমরা, একটা সময় এটা থাকবে না। আমাদের মেয়েরা কয়েক বছরের মধ্যেই আরো পরিণত হবে। বয়সটাও বাড়বে। অভিজ্ঞতাও হচ্ছে।’
আগামী আসরে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান, পাকিস্তান এবং তিন বারের রানার্সআপ নেপাল। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।
এপ্রিল মাস পর্যন্ত নারী ফুটবলের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। মার্চে সাফে যাওয়ার আগে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের দ্বিতীয় বাছাই রয়েছে মিয়ানমারে। এই খেলাটি হবে ২৭ ফেব্রুয়ারী হতে ৩ মার্চ পর্যন্ত। প্রথম রাউন্ডের বাছাইয়ে ঢাকায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
এপ্রিলে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব—১৯ আন্তর্জাতিক নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট রয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে ৬ দেশ খেলার কথা রয়েছে। এর মধ্যে জাপান, কোরিয়া, কাতার, জর্ডান, থাইল্যান্ডকে আনতে চায় বাফুফে। এই টুর্নামেন্ট ছাড়াও আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়ে যেতে পারে এবছর। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথাও চালাচালি করছে বাফুফে। নারী ফুটবল ক্যাম্পে এবছর নতুন কিছু খেলোয়াড়ও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোচ ছোটন।