আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায়ে প্রমাণ হয়েছে সাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এ দেশের মাটিতে আর কোনো দিন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। বিএনপিকে সামনে এগোতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ছাড়তে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য জনগণের কাছ থেকে যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।
সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিশাল জয়ে অতি উল্লসিত বা অতিরিক্ত আত্মপ্রত্যয়ে না ভুগে দলের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যতো বড় জয় ততো বড় শঙ্কা আছে। বিপুল বিজয়ে আত্মতুষ্টি বা আত্মহারা হওয়ার কোনো কারণ নেই। যত বিশাল বিজয় হবে, পরাজিত শক্তিরা অন্য রূপে তত গভীর চক্রান্ত করতে পারে। পঁচাত্তরের আগেও আমাদের অনেক বড় বিজয় এসেছিল। এরপরই আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি। এবারও বড় বিজয়ে বেশি খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যত সফলতা আসবে চক্রান্তকারীরা ততই নতুন রূপে, নতুন আঙ্গিকে আবির্ভূত হবে। তাই বেশি আত্মপ্রত্যয়ী না হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে এগিয়ে যেতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অনুগত থাকতে হবে।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আশরাফ ছিলেন আমার ছোট ভাইয়ের মতো। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল পারিবারিক। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন গ্রেফতার হন, তখন সৈয়দ আশরাফ সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে সাহসী ভূমিকা পালন করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কৃষক লীগ নেতা এম এ করিম, সংগঠনের মহাসচিব হুমায়ুন কবির মিজিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।