ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশ ভারত যৌথ কমিশনের বৈঠক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সকল ইস্যুতে আবার কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা ও দিল্লি। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ পরামর্শক কমিশন ফেব্রুয়ারির শুরুতে দিল্লিতে বৈঠকে বসছে। বাংলাদেশের পক্ষে নব নিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকে নেতৃত্বে দেবেন। এটি হবে জেসিসির পঞ্চম বৈঠক।

গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার তৃতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ভারত সরকার তাকে দিল্লি সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন গতকাল সোমবার তার দফতরে সাংবাদিকদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত যাচ্ছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের উষ্ণ সম্পর্ক। সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাই ভারতেই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে যাচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন ড. মোমেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে জেসিসি বৈঠকের কাজ শুরু করেছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় জেসিসি বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সকল ইস্যুতে আলোচনা হবে। এ পর্যন্ত সম্পাদিত সকল চুক্তি, সমঝোতা ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনাসহ অনিষ্পন্ন ও ঝুলে থাকা ইস্যুগুলো সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। আগামীকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জেসিসি বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এতে সভাপতিত্ব করবেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র, পানি সম্পদ, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি, অর্থ, যোগাযোগ, বাণিজ্য, নৌপরিবহন, রেল, পরিবেশ ও বন, ভূমিসহ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু রয়েছে এমন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তারা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে যোগ দেবেন। মন্ত্রণালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে সর্বশেষ অগ্রগতি ও অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলো নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে। যাতে জেসিসি’র বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহজ হয়।

সূত্র জানায়, দুইদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জেসিসি’র বেঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ আগামী সপ্তাহ নাগাদ চূড়ান্ত হবে। প্রাথমিকভাবে ফেব্রুয়ারি প্রথম সপ্তাহেই তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।