সদাসদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় শত বছর ধরে ছড়াচ্ছে শিক্ষার আলো

মাসুম বিল্লাহ, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

শতবছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার সদাসদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। গোপালদীর প্রাণকেন্দ্রে নয়নাভিরাম স্থানে ৩৮৬ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে সদাসদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠ বহু শিক্ষাব্রতী মানুষের প্রচেষ্টার ফসল। সদাসদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন বাতিঘর হয়ে পথ দেখিয়ে চলেছে শিক্ষার্থীদের। এই স্কুলেই লেখাপড়া করে আলোকিত মানুষ হয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ বাতেন জানান, গত এক শতাব্দীতে এই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছে অনেক কীর্তিমান শিক্ষার্থী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এখানকার শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি আরো জানান, তখনকার জমিদার পরিবারের তিন সদস্য শ্রী রাধামোহন সাহা, শ্রী সর্দার জগবন্ধু সাহা ও শ্রী হরিস চন্দ্র ভৌমিক ১৯১৩ সালে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯১৯ সালে তত্কালীন কলিকাতা শিক্ষা বোর্ডের কাছে থেকে স্বীকৃতি পায় স্কুলটি এবং ১৯৮০ সালের পহেলা জানুয়ারি বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। শুরুতেই ১৯১৯ সালের ১ জুন শ্রী মনমোহন সাহা প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তারপর থেকে ১০ জন প্রধান শিক্ষকের পর বর্তমানে আঃ বাতেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বপালন করছে। প্রথম অবস্থায় উপজেলার ৫শ থেকে ৬শ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ১২০০ ছাত্র, ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে একত্রে শিক্ষা প্রদান করা হলেও ১৯৭৪ সালে গোপালদীতে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে সদাসদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কেবল ছাত্রদের শিক্ষা প্রদান করে হচ্ছে।

বাংলাদেশের অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তি এই স্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আইআরডিপির সাবেক ডাইরেক্টর রফিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ, ১৯৯০ সালে ঢাকা বোর্ডে স্ট্যান্ড করা আঃ আউয়াল, ১৯৭৩ সালে ঢাকা বোর্ডে স্ট্যান্ড করা রতন কুমার সাহা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ আলাউদ্দিনসহ অনেকে। সহকারী প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন বলেন, প্রাচীন এই স্কুলে শিক্ষকতা করে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

সু্কলের সাবেক ছাত্র ও বর্তমানে ডাচবাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার আঃ আউয়াল জানান, সদাসদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার কারণে আমার জীবন বদলে গেছে। আমি সব সময় এই স্কুলের কথা স্মরণ করি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, মানুষ গড়ার এই বিদ্যাপীঠ সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা এই বিদ্যালয়টির শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।