এবার হাজারি ক্লাবে নাদাল

জিমি কনর্স, ইভান লেন্ডল, রজার ফেদেরারদের অভিজাত এক ক্লাবে যোগ দিলেন রাফায়েল নাদাল। টেনিস ইতিহাসের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারে হাজারতম জয়।

এমন বিরল ঘটনাটা জন্ম দিলেন এমন এক সময়ে, যখন করোনা মহামারির কারণে দর্শকদের মাঠে আসাই নিষিদ্ধ! আর তাই প্যারিস মাস্টার্সে যখন ফেলিসিয়ানো লোপেজের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিচ্ছেন, প্যারিসের সেন্টার কোর্টে তখন খেলছে শ্মশানের নীরবতা!

৪-৬, ৭-৬, ৬-৪ গেমে ক্যারিয়ারের হাজারতম জয়টা তুলে নিয়েও তাই কিছুটা আক্ষেপ স্প্যানিশ তারকার কণ্ঠে, ‘আসল অনুভূতি, ব্যক্তিগত অনুভূতিটা সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। কোর্টটা ফাঁকা, এটা অনেক বড় ব্যবধান গড়ে দেয়।’ হাজারি ক্লাবে ঢোকার বিরল কীর্তিটা এরপরও অবশ্য নাদালের কাছে বিশেষ কিছু। বললেন, ‘আমি জানি এটা একটা বিশেষ সংখ্যা, ১ হাজার! এমনকি দর্শকদের সামনে উদ্যাপন করতে না পারার পরও।’

৩৯ বছর বয়সী লোপেজের কাছে ২০০৩ সালে সর্বশেষ হারা নাদাল জিতেছেন পরের চার সাক্ষাতেই। তবে বুধবার রাতের লড়াইয়ে শুরু থেকেই সপ্রতিভ ছিলেন লোপেজ। খেলেছেন ২২টি ‘এইস’, তাতে নাদালকেও লাগছিলো কিছুটা নড়বড়ে। এ নিয়ে নাদাল বলেন, ‘সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে উপায়ে খেলাটা শুরু করেছি আমি, বিশেষ করে খেলাটা যখন ফেলির (লোপেজ) মতো সার্ভারের বিপক্ষে খেলাটা হয়। এরপর অনেক চাপে পড়তে হয়েছে আমাকে, তবে এটা জয় করতে সক্ষম হয়েছি।’

সংখ্যাতত্ত্বে নাদালের কীর্তি

৮৪ হাজারতম জয়টা তুলে নেওয়ার পথে ২০১ ম্যাচে হেরেছেন নাদাল, তার মানে মোট ম্যাচের ৮৪ শতাংশ ম্যাচেই বিজয়ীর হাসি হেসেছেন তিনি।

১০০ এ জয়ের দশ শতাংশ (১০০টি) এসেছে প্রিয় প্রতিযোগিতা ফরাসি ওপেনে। যার রেকর্ড ১৩তম শিরোপাটা কিছুদিন আগেই জিতেছেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি।

৮৬ এ মাইলফলক ছোঁয়ার পথে নাদাল শিরোপা জিতেছেন ৮৬টি, যাতে করে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের তালিকাতেও চতুর্থ স্থানে আছেন তিনি। তার সামনে আছেন হাজারি ক্লাবেরই বাকি তিন সদস্য, জিমি কনর্স (১০৯), রজার ফেদেরার (১০৩) ও ইভান লেন্ডল (৯৪)।

৬৫ র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে রাফায়েল নাদাল খেলেছেন ২৬৪ ম্যাচ, যেখানে তার ১৭২টি জয়ের বিপরীতে আছে ৯২টি পরাজয়। শতকরা ৬৫ ভাগ ম্যাচ বিজয়ী হিসেবে শেষ করেছেন তিনি।

৬৯ ফলাফল নির্ধারণী তৃতীয় ও পঞ্চম সেটে নাদালের জয়ের হার। যেখানে ১৬৪ জয়ের বিপরীতে হেরেছেন মোটে ৬৪টি সেট। জয়ের হার ৬৯.২!