ইত্তেফাক রিপোর্ট
অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের আরো অন্তত ২০টি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর সেলিম প্রধানের ২৭ ব্যাংক অ?্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের প্রায় অর্ধশত ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হলো। এ ব্যাপারে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ব্যাংক হিসাব স্থগিত ছাড়াও সেলিম প্রধানের স্থাবর সব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
দুদক কমিশনার আরো জানান, সেলিম প্রধান কত টাকা পাচার করেছে সেটা হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে তার অর্থ পাচারের পরিমাণ সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এসব টাকার উত্সও চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে ক্যাসিনো ব্যবসা এসব টাকার উত্স হতে পারে বলে কমিশন ধারণা করছে।
দুদক সূত্র জানায়, সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে অনলাইন ক্যাসিনো খেলার প্রমাণ এবং এর মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি টাকা পাচার করার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এছাড়া থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ব্যাংক, দি সায়েম কমার্শিয়াল ব্যাংকে সেলিম প্রধানের ২০ কোটির টাকার বেশি অবৈধ লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। অপর দিকে এছাড়া থাইল্যান্ডে সেলিম প্রধানের মালিকানাধীন প্রধান গ্লোবাল ট্রেডিং, এশিয়া ইউনাইটেড এন্টারটেইনমেন্ট, তমা হামে পাতায়া কোম্পানি লিমিটেডসহ সাতটি কোম্পানির সন্ধান পাওয়া গেছে।
২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেলিম প্রধানকে আটক করে র্যাব-১। এরপর তার গুলশান, বনানীর বাসা ও অফিসে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৯ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও হরিণের চামড়া জব্দ করা হয়। হরিণের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় ঐ দিনই সেলিম প্রধানকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এরপর গত ২৭ অক্টোবর সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৪ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক। এরপরই সেলিম প্রধানকে সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপ-পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান।