নন্দন

রূপালি পর্দায় ‘অন্যরকম সংগ্রাম’

বিনোদন রিপোর্ট

 

১৯৩০, ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে হলিউডে মেলোড্রামাভিত্তিক মেয়েদের সিনেমা বেশ এগিয়ে যায়। বর্তমানে টেলিভিশন সিরিজ হিসেবেই মেলোড্রামাভিত্তিক এসব সিনেমা দেখানো হয়। সাধারণত এসব সিনেমা নায়িকা প্রধান এবং এর চিত্রনাট্য অথবা মূল উপন্যাসও মেয়েদেরই লেখা। এসব ছবি খুব কম খরচে তৈরি ও বিপণন করা হয় এবং এর প্রধান দর্শক মেয়েরাই। সাধারণত নর-নারীর মধ্যে প্রেম-বিরহ-মিলন, গৃহস্থালির সমস্যা ও মাতৃত্বের ইস্যু নিয়েই এসব সিনেমার কাহিনি তৈরি হয়। আবার অনেক সময় পরিবারভিত্তিক ব্যবসা বা সম্পত্তি নিয়ে অন্তঃকলহও চলচ্চিত্রের মূল ইস্যু হয়ে ওঠে।

সিনেমার শ্রেণিভিত্তিক তত্ত্বের প্রেক্ষিতে এ ধরনের ‘মেয়েদের ছবি’ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা, মাতৃত্বের আদর্শ ও যৌনতার ভিত্তিতে মেয়েদের সংজ্ঞায়িত করার প্রক্রিয়ায় সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধের কাজ করে বলে অনেকেই মনে করেন।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় ‘স্ট্র ডগস’ ছবিটি। গর্ডন উইলিয়ামসের চিত্রনাট্যে ছবিটি পরিচালনা করেন স্যাম পেকিংপা। এই সিনেমার মূল পটভূমি ধর্ষণ। আমেরিকান একজন পুরুষ ইংল্যান্ডের এমি নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু শহরের অস্থির পরিবেশ থেকে বাঁচার জন্য তারা ছোট শহরে বসবাস শুরু করেন, যেখানে এমি বড় হয়েছেন। কিন্তু সেখানকার স্থানীয় দু’জন এমিকে ধর্ষণ করেন। এই যৌন নিগ্রহতা এমির স্বামীকে প্রতিবাদী ও হিংস্র মানুষে পরিণত করে। এমন কাহিনি নিয়েই এগিয়েছে ছবিটি। এই ছবিটি নিয়ে বেশ আলোচনা হয় সেসময়।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত আরেকটি বিকল্পধারার চলচ্চিত্র হলো ‘হোয়াইট রেইনবো’। ধরন মান্দ্রায়ার পরিচালিত ও লিন্ডা মান্দ্রায়ার প্রযোজিত আমেরিকায় নির্মিত সিনেমাটিতে দেখানো হয় ভারতীয় বিধবাদের জীবন।

নারীর ভোটাধিকার আদায়ের যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘আয়রন জড অ্যানজেলস’ সার্থকভাবে নারীর সংগ্রামকে তুলে ধরেছে।

এছাড়া দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু সিনেমাটিও বেশ প্রশংসা পায় নারীদের আত্মসম্মানকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে। ডেভিড ফিঞ্চার ছবিটি পরিচালনা করেন। এই ছবিতে অভিনয় করেন ড্যানিয়েল ক্রেইগ, রুনি মারাসহ হলিউডের স্বনামধন্য তারকারা। ছবিটি অস্কারে সেরা এডিটিংয়ের জন্য সম্মানিত হয়।