আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
চকরিয়ায় চলতি মওসুমে সরিষার ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় প্রায় তিনশত হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় সরিষার। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রঙয়ে ছেয়ে গেছে। সরিষা ফুলের তেমন গন্ধ না ছড়ালেও এর দৃশ্য যেন আকৃষ্ট করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশাও করছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেতে সরিষার ফুটেছে ফুল।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সাহারবিল, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা, কোনাখালী, বরইতলী, ডুলাহাজারা, চিরিংগা ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভাস্থ অন্তত শতাধিক স্থানে প্রায় তিনশত হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। বিএম চর এলাকার কৃষক দুলাল বলেন, তিনি এ বছর ৪০ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। এ সরিষা আবাদে সার, বিষসহ তার খরচ পড়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।
এছাড়া সাহারবিল ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক মো: সাকের উল্লাহ জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরেও এই ইউনিয়নের বিভিন্ন জনপদে প্রায় ৪০-৪৫ জন কৃষক সরিষা চাষ করেছে। তাদের জমির পরিমাণ অন্তত ৭০ একরের বেশি হবে। সাহারবিল পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় নিজের জমিতে কয়েক বছর ধরে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করছেন কৃষক সাকের উল্লাহ। তিনি বলেন, কম খরচ ও অল্প দিনের পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক লাভবান হওয়া যায় সরিষা চাষে। তাই অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকরা জমিতে সরিষা চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি বর্গাচাষি সমিতির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন পুতু বলেন, এখানে দেশি ও উচ্চ ফলনশীল দুই জাতের সরিষা চাষ বেশি হয়ে থাকে। তবে দেশি জাতের চেয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষে লাভ বেশি হয়। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ বিধ্বংসী তামাকের বদলে কৃষকরা চাইলে কম খরচে অধিক লাভবান সরিষা চাষে আরো বেশি করে সম্পৃক্ত হতে পারে। এতে করে কৃষকরা লাভবান হবে। বন্ধ হবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক তামাক চাষ।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ বলেন, সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।