স্পিনারদের কল্যাণে খুলনার প্রথম জয়

ঢাকায় লো-স্কোরিং ম্যাচের পাশাপাশি বড় রানের ম্যাচও দেখা গেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের সিলেট পর্বে রানের জোয়ার দেখার আশায় বুক বেঁধেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। লাক্কাতুরা চা বাগান বেষ্টিত সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের প্রথম ম্যাচে অবশ্য রান উত্সব হয়নি।

তবে সিলেটে এসে ভাগ্য খুলেছে খুলনা টাইটান্সের। হারের বৃত্ত ভাঙতে সমর্থ হয়েছে দলটি। টানা চার হারের পর বিপিএলে বহুল কাঙ্খিত প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। লো-স্কোরিং ম্যাচে খুলনাকে জয় এনে দিয়েছেন স্পিনাররা। গতকাল সিলেটে রাজশাহী কিংসকে ২৫ রানে পরাজিত করেছে খুলনা।

প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১২৮ রান তুলেছিল খুলনা। জবাবে ১৯.৫ ওভারে ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় রাজশাহী। চার ওভারে ১০ রান দিয়ে তিন উইকেট নেয়া খুলনার বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ম্যাচ সেরা হন। পাঁচ ম্যাচে খুলনার প্রথম জয়। এবং সমান সংখ্যক ম্যাচে রাজশাহীর এটি তৃতীয় হার।

মিরপুরে দুদলের প্রথম সাক্ষাতও লো-স্কোরিং ছিল। গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ম্যাচে খুলনাকে ৭ উইকেট হারিয়েছিল রাজশাহী। আগে ব্যাট করা খুলনা ৯ উইকেটে ১১৭ রান তুলেছিল। তিন উইকেটে ১১৮ রান করে ম্যাচ জিতেছিল রাজশাহী। সিলেটে গতকাল যার প্রতিশোধও নিয়ে নিল খুলনা।

গতকাল রাজশাহীর সামনে টার্গেটটা খুব বড় ছিল না। ১২৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৩২ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসে রাজশাহী। তাও পাওয়ার প্লে’র মাঝেই। দ্রুত চার উইকেট পতনের চাপটা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। ইনিংসের প্রথম ওভারে লরি ইভান্সকে (০) ফেরান জুনায়েদ খান। তারপরই শুরু হয় খুলনার স্পিনারদের ঘূর্ণি জাদু। মুমিনুল হক ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ২৯ রানের জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ। মুমিনুল ৭ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। ষষ্ঠ ওভারে মিরাজ-সৌম্যকে ফেরান তাইজুল। ইনিংস সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন মিরাজ। ২ রান করে আউট হন সৌম্য। সেখানেই থামেনি তাইজুল-মাহমুদউল্লাহদের দাপট। জাকিরকে (৭) মাহমুদউল্লাহ ও ডেসকাট (১৩) তাইজুলের শিকার হলে ৫৫ রানেই ৬ উইকেট পতন হয় রাজশাহীর।

খুলনার তিন স্পিনার তাইজুল-মাহমুদউল্লাহ-মালান নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ১২ ওভার বোলিং করে এক মেডেনসহ স্পিনার ত্রয়ী খরচ করেছেন ৪৫ রান। তাইজুল ১০ রানে তিনটি, মাহমুদউল্লাহ ১২ রানে দুটি উইকেট নেন। উইকেট না পেলেও মালান মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন। শেষ দিকে জংকারের ১৫, আরাফাত সানির ১৫, কামরুল ইসলাম রাব্বির ১৩ রানে ভর করে একশ পার হয় রাজশাহীর স্কোর। জুনায়েদ খান তিনটি, উইজ একটি উইকেট পান।

এর আগে টস জিতে নামা খুলনার ব্যাটিংও ছিল বিবর্ণ। ছয় ব্যাটসম্যান দুঅঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই। ইনিংস সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছেন আরিফুল হক। ৮২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর তার ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় খুলনা। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দলকে টেনে গেছেন আরিফুল। ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছিল মাহমুদউল্লাহর দল। জহুরুল ইসলাম ১৩, জুনায়েদ সিদ্দিকী ১৪, মালান ১৫, নাজমুল হোসেন শান্ত ১১, উইজ ১৩ রান করেন। রাজশাহীর পক্ষে মিরাজ, আরাফাত সানি, ইসরু উদানা দুটি করে এবং মুস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

খুলনা টাইটান্স: ২০ ওভারে ১২৮/৯

রাজশাহী কিংস: ১৯.৫ ওভারে ১০৩

ফল: খুলনা টাইটান্স ২৫ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা : তাইজুল ইসলাম (খুলনা টাইটান্স)