লকডাউন শিথিল করার পর থেকে ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হয়েছে প্রায় সকল বিনোদন কেন্দ্রগুলো। গবেষকদের মতে সামনের শীতে বাড়তে পারে দেশে করোনার প্রকোপ। তারপরেও মানুষের মাঝে নেই কোনো সচেতনতা।
মাস্ক পরতে বললেও শুনতে হয়, ‘মাস্ক পরে কি হবে’, ‘জন্মমৃত্যু আল্লাহর হাতে’ ছাড়াও আরো নানা কথা। আবার যারা পরছেন তাদের মাঝেও রয়েছে ঠিক মতো পরায় অনীহা। কেউ কেউ পরছে শুধুই মুখ ঢেকে, আবার কেউ কেউ গলায় ঝুলিয়ে রাখছেন। লোকালয়ে যেখানে মাস্ককে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ সেখানে তারা অজুহাত দিচ্ছেন গরমে অস্বস্তিতে ভোগার।
গবেষকদের মতে আসছে শীতে ব্যাপক হতে পারে করোনার প্রকোপ। শীতে সাধারণ জ্বর-সর্দি অনেকটাই বেঁড়ে যায়, তাই তার সাথে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই। তবে সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে।
গত ৭ দিনের উপাত্তের গড় থেকে দেখা যায়, দেশে দৈনিক আক্রান্তের হার প্রায় ২০ শতাংশ; যা একদিনে ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। মৃত্যুর হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ৩০ হাজার ৪শ’ ৯৬ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ছয় হাজার ১শ’ ৭৩ জন।
১৩ নভেম্বর মিরপুর চিড়িয়াখানায় কয়েকজন দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, অনেকেই মাস্ক পরার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্বও বেশ ভালোভাবেই মেনে চলছেন। কিন্তু অনেকেই কোনো তোয়াক্কা করছেন না। যেমন পার্কে ঢোকার ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সীমিত ছিল মাইকে নির্দেশনা ও মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না পর্যন্তই। পার্কে ঢোকার পরেই ভেতরে কে কতটুকু নির্দেশনা মানছেন তা আর কারোই মনোযোগে থাকছে না।
তারা আরো বলেন, নিজেরাই যদি নিজেদের সচেতন করতে না পারি তাহলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করা অনেকটাই কঠিন হবে বাংলাদেশের জন্য। তবে গণমাধ্যমের ভূমিকাই সব থেকে বেশি বলে উল্লেখ করেন প্রায় সকলে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ