ইত্তেফাক রিপোর্ট
পদোন্নতি-পদায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়মের কারণে পদ্মা অয়েল কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। জানা যায়, কতিপয় কর্মকর্তার লাগামহীন দুর্নীতির কারণে আর্থিক ক্ষতিতে পড়ছে কোম্পানিটি। দুদক কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করলেও অধরা রয়ে গেছেন অনেকেই।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে দায়ী করা হয়েছে এমন ব্যক্তিরাও পার পেয়ে যাচ্ছেন। কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে। মংলার এক প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপমহাব্যবস্থাপক মোসাদ্দেক হোসেন কোম্পানির এজিএম থাকা অবস্থায় আট কোটি সাতান্ন লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৩ থেকে ’৯৯ সাল পর্যন্ত সময়ে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়। তখন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ উল ইসলাম এবং সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ তাদের প্রতিবেদনে বলেছেন, মোসাদ্দেক হোসেন কোম্পানির আট কোটি সাতান্ন লাখ টাকা ক্ষতির জন্য দায়ী। তিনি পদোন্নতির জন্য গত ১০ এপ্রিল জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বরাবর আবেদন করলে তা নাকচ করে বলা হয়, এই আবেদন সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থি। এরপরও কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে পদোন্নতি দেয়া হয় এবং খুলনায় তাকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। একই ব্যক্তিকে আবার মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন পরিচালক আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সদস্য করা হয়েছে আবু সালেহ ইকবালকে। গত ৯ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে কোম্পানি সচিব কর্তৃক প্রেরিত অফিস আদেশে এই কমিটি ঘোষণার পর পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে বলে সূত্র জানায়। সূত্রমতে, বর্তমানে পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যাত্রীবাহী বিমান সংস্থাকেও জ্বালানি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি। গত ডিসেম্বরের শুরুতে টানা কয়েকদিন বাংলাদেশ বিমান, এমিরেটস, থাই এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারসহ অন্যান্য কোম্পানির এয়ারক্রাফটে জ্বালানি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। যা যাত্রীদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।