২২৩ কোটি টাকা পাচার

সম্রাটের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার চার্জশিট

প্রায় ২২৩ কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে এ চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়। শিগিগরই বিচারিক আদালতে এ চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, তদন্তকালে জব্দ রেকর্ডপত্র, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আসামির বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সম্রাট অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে সহোদর ভাই ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ও মোস্তবা জামানের নামে রাজধানীর কাকরাইলে ৪ হাজার ২৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনে নিজে ভোগদখল করেছেন। এছাড়া আয়কর নথির মাধ্যমে উত্সবিহীন ব্যবসার মূলধন প্রদর্শন এবং ৩ কোটি ৪০ লাখ ৩ হাজার ৯১৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে।

অন্যদিকে সম্রাট সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার তিনটি ক্যাসিনোতে ২ কোটি ৩ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার ক্যাশ আউট করে নিজের নামে গচ্ছিত রেখেছেন বা বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে আসামি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বেনামে কেনা ফ্ল্যাটসহ অবৈধভাবে ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকার জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগদখলে রেখেছেন। যার মধ্যে ২১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা বিদেশে (সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া) পাচার, আয়ের অবৈধ উত্স গোপন বা আড়ালের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর ৬ অক্টোবর গ্রেফতার হন সম্রাট। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়। এছাড়া গত বছরের ১২ নভেম্বর দুদক একটি মামলা দায়ের করে। দুদকের মামলায় সম্রাটের সম্পদের খোঁজখবর নিতে তার স্ত্রী ও ভাইকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।