‘গার্লস টেকওভার’—এটি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতীকী কর্মসূচি, যার মাধ্যমে মেয়েদের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সামাজিক নেতৃত্বে ভূমিকা পালনে এগিয়ে আনতে নারীদের স্বপ্ন দেখানো আর সাহস জোগাতে এই আয়োজন করে থাকে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল। প্রতীকী এই কর্মসূচির মাধ্যমে এক দিনের জন্য সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় একজন কন্যাশিশুর কাছে।
‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচির এবারের থিম ছিল ইন্টারনেট বা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় নারীদের স্বাধীনতা। আর তাই এবার এক দিনের জন্য বাংলাদেশের প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের অন্যতম অগ্রদূত সোনিয়া বশির কবিরের জায়গায় এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতীকী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ইয়ুথ অ্যাক্টিভিস্ট মিতুকে। ইয়েস বাংলাদেশ নামক একটি সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে এই টেকওভারের সুযোগ পেয়েছে মিতু। ছোটবেলা থেকেই শিশু অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছে সে।
সোনিয়া বশির কবির বাংলাদেশের চিরায়ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজকাঠামোর মধ্যেই বেড়ে ওঠা একজন অনন্য নারী, যিনি তার অদম্য স্পৃহা, অফুরন্ত কর্মশক্তি আর হার না মানা মনোবল নিয়ে নারী-পুরুষ লিঙ্গ ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ঈর্ষণীয় পর্যায়ে। তার জায়গায় কিছুটা সময় হলেও দায়িত্ব পালনের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছে মিতু।
মিতু বলে, ১৩ অক্টোবর এই প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে এখন আমার আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে এবং এই আত্মবিশ্বাস একদিন আমাকে এই ধরনের নেতৃস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালনে সাহায্য করবে। এই ঘটনা আমার চিন্তার জায়গাকে আরো বেশি বদলে দিয়েছে। একজন যুব নারী হিসেবে আমার এই দায়িত্বগ্রহণ অন্যান্য সহযোদ্ধাদের জন্যও প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। আমাদের মধ্যে এই ভাবনা এসেছে যে আমরাও এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারব।
সোনিয়া বশির কবিরের কাছে ইন্টারনেটে নারীরা যে হয়রানির শিকার হচ্ছে সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে মিতু। মিতুর প্রস্তাব মতে, সাধারণত নারীরা অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়। কিন্তু সেটি অনেক সময়েই হয়ে ওঠে না। এমনকি অভিযোগ করলে অনেক সময় বিচারও পাওয়া যায় না।
এজন্য এমন একটি অ্যাপ তৈরি করা যায় কি না, যেটিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হয়রানির শিকার নারীরা বিষয়টি রিপোর্ট করতে পারবে, যার ভিত্তিতে সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য ভার্চুয়াল দুনিয়াকে নিরাপদ করার লড়াইয়ে সোনিয়া বশিরের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে মিতু। মিতুর এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই শীর্ষ উদ্যোক্তা। তিনি তার সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কন্যাশিশুদের সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মিতুকে।
তিনি মনে করেন, গার্লস টেকওভারের মতো এমন একটি প্ল্যাটফরম নারীর নেতৃত্বের সুযোগ এবং আত্মবিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করতে সহায়তা জোগাবে। মিতুর স্লোগান—আমি নারী, আমিও পারি। একটি নারীবান্ধব ভবিষ্যত্ গড়ে তোলা তার উল্লেখযোগ্য স্বপ্ন।
ইত্তেফাক/বিএএফ