বরিশালে শুকনো মৌসুমে নদীতে মাছ নেই, কষ্টে দিন কাটছে জেলেদের

কালাবদর নদীর লাহারহাট মোহনায় অলস দিন কাটাচ্ছেন প্রায় অর্ধশত নৌকার জেলে বহর। শুকনো মৌসুমে নদীতে মাছ কমে যাওয়ার পাশাপাশি জাটকা ইলিশের নিষেধাজ্ঞায় জেলে পরিবারগুলো কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। লাহারহাট মোহনার এ বহরের একেকটি নৌকায় একেকটি পরিবারের বসবাস।

৫ সন্তানের পিতা কাদের সরদার (৬০) ও মাতা জোলেখা বেগম (৫০) জানান, তীব্র শীত উপেক্ষা করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আড়িয়াল খাঁ, কালাবদর থেকে মেঘনা- তেঁতুলিয়া ঘুরে বেড়ান তারা। যে মাছ ধরা পড়ে তা বিক্রি করেই চলে সংসার। শুকনো মৌসুম শুরুর পর থেকেই প্রায় দু’মাস নদীতে মাছ না পাওয়ায় কষ্টে দিন কাটছে তাদের।

একাধিক জেলে জানান, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। তার উপরে একের পর এক সরকারি নিষেধাজ্ঞায় তাদের এ পেশায় টিকে থাকা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বহরের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি শামছু ঘরামী (৮০) জানান, নৌকাতে জন্মানোর পর তাদের পরিচয় হয় ‘ব্যাবাইজ্জা’ নামে। এ নামটি যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে তারা চিকিত্সা, শিক্ষাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। সন্তানদের পড়াশোনার জন্য স্কুলে ভর্তি করা হলে নদী থেকে তীরে উঠলেই ব্যাবাইজ্জা বলে নানাভাবে উপহাস করা হয়। এতে করে সন্তানদের সাথে অন্য ছাত্রদের বিবাদের সৃষ্টি হয়। সামান্য বিবাদে ডাঙায় থাকা লোকজন হামলা চালালে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে হয় তাদের। শিশু থেকে কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সকলেরই একটাই কাজ মাছ ধরে বিক্রি করে পেট চালানো। কিন্তু শুকনো মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে মাছের আকাল দেখা দেয়ায় ধার-দেনা ও চড়া সুদে টাকা এনে চলতে হচ্ছে তাদের। তিনি আক্ষেপ করে বলেন তাদের ভিটেমাটি না থাকায় কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠান ঋণ দেয় না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ চড়া সুদে ঋণ দিলে মৌসুমে তা কেউ কেউ শোধ করতে সক্ষম হয়।