তিনি লড়ে যান নীরবে

টেস্টে ব্রেন্ডন টেলরের রান ১৮৪০। খেলেছেন ২৮টি ম্যাচ। ৩৫.৩৮ গড়ে তাকে মোটামুটি কার্যকরই বলা যায়। তবে প্রতিপক্ষ যখন বাংলাদেশ, তখন বরাবরই দুর্বার হয়ে ওঠে তার ব্যাট— এই কথাটা মিরপুরে গতকাল যে টেস্টে বাংলাদেশ ২১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতলো সেটার জন্যও ধ্রুব সত্য।

কারণ এই টেস্টেও দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই নিয়ে সপ্তম বারের মতো একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেন কোনো ব্যাটসম্যান। এই সাতবারের মধ্যে টেলরই করেছেন দুবার। আরেকজন ব্যাটসম্যানও দুবার করে বাংলাদেশের বিপক্ষে এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি পেয়েছেন। তিনি হলেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। একবার করে করেছেন পাকিস্তানের ইয়াসির হামিদ, শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরেন পাওয়েল।

টেস্টে টেলরের যে ছয়টা সেঞ্চুরি করেছেন তার মধ্যে পাঁচটাই তিনি করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০ টেস্ট খেলে ব্রেন্ডন টেল পাঁচটি সেঞ্চুরি ছাড়াও করেছেন দুটি হাফ সেঞ্চুরি। মোট রান ১০৩৯ রান। এর সাদা পোশাকে ক্যারিয়ারের ৫৬ শতাংশ রানই তিনি করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। গড়টাও বেশ যুত্সই — ৬৪.৯৩!

দ্বিতীয় ইনিংসে অল আউট হওয়ার আগে জিম্বাবুয়ে করতে পারে মাত্র ২২৪ রান। এর মধ্যে ১০৬ রানই করেন টেলর। ইনিংসের শেষ অবধি অপরাজিত থেকে তিনি হাঁকান ১০টি চার। প্রথম ইনিংসে তিনি সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন পিটার মুরকে। এবার কাউকেই পেলেন না। কে জানে, যোগ্য সঙ্গী পেলে হয়তো ম্যাচের ফলাফলটাই অন্যরকম হয়ে যেতো।

এর আগে ২০১৩ সালে হারারেতে নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের দুই ইনিংসে ১৭১ ও ১০২* রানের ইনিংস খেলেছিলেন টেলর। জিম্বাবুয়ে সেই ম্যাচটায় জিতেছিল ৩৩৫ রানের বিশাল ব্যবধানে। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, এবার একই কীর্তি গড়ার পরও জিম্বাবুয়ে দলকে ২১৮ রানে হারতে হল।

মিরপুর টেস্ট হারলেও অবশ্য সিরিজটা ড্র করতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। লম্বা সময় বিরতির পর টেস্ট খেলতে নামা দলটির জন্য এটাও সামান্য কোনো অর্জন নয়। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাও তাই ইতিবাচকতা খুঁজছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি গর্বিত। খুবই ভালো লেগেছে যে, সবাই নিজেদের লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। ব্রেন্ডন টেলরের কথা আর কি বলবো। ওর পারফরম্যান্স ছিল বিশ্বমানের। আর ক্রিকেটে শেখার তো কোনো শেষ নেই। খেলোয়াড় হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে প্রতিনিয়তই আমি শিখছি। তবে, সব মিলিয়ে বলতেই হচ্ছে যে আমরা দারুণ একটা সিরিজ কাটালাম।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি

ব্যাটসম্যান          দল                ইনিংস              সাল        ভেন্যু

ইয়াসির হামিদ     পাকিস্তান        ১৭০ ও ১০৫     ২০০৩     করাচি

দিলশান              শ্রীলঙ্কা            ১৬২ ও ১৪৩      ২০০৯     চট্টগ্রাম

পাওয়েল             ওয়েস্ট ইন্ডিজ    ১১৭ ও ১১০      ২০১২     মিরপুর

সাঙ্গাকারা           শ্রীলঙ্কা            ১৪২ ও ১০৫      ২০১৩     গল

ব্রেন্ডন টেলর        জিম্বাবুয়ে         ১৭১ ও ১০২*    ২০১৩     হারারে

সাঙ্গাকারা           শ্রীলঙ্কা            ৩১৯ ও ১০৫      ২০১৪     চট্টগ্রাম

ব্রেন্ডন টেলর        জিম্বাবুয়ে         ১১০ ও ১০৬*   ২০১৮     মিরপুর