জামাই-শ্বশুরের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা

কালীগঞ্জের বিনিরাইলে মাছের মেলা

আব্দুর রহমান আরমান, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা  

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছে মাছের মেলা। আর এই দিনটির জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন উপজেলাবাসী। এখানে চলে এলাকার জামাইদের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা। বিনিরাইল এবং এর আশপাশে গ্রামে যারা বিয়ে করেছেন, সে জামাইরা হচ্ছেন ওই মেলার মূল ক্রেতা ও দর্শনার্থী। তাছাড়া এই মেলাকে ঘিরে এলাকার শ্বশুরদের মধ্যেও চলে এক নীরব প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতাটি হচ্ছে কোন শ্বশুর সবচেয়ে বড় মাছটি ক্রয় করে জামাই আপ্যায়ন করতে পারেন। আবার জামাইরাও চান কত বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যেতে পারেন।

গতকাল মেলায় গিয়ে দেখা গেল, ৪০ কেজি ওজনের একটা কাতল মাছকে ঘিরে ক্রেতা জামাইদের জটলা লেগে আছে। বিক্রেতা মাছের দাম হেঁকেছেন ৬৫ হাজার টাকা। ক্রেতাদের মধ্যে স্থানীয় চুপাইর এলাকার জামাই নুরুল ইসলাম মাছটির দাম সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা বলছেন। কিন্তু বিক্রেতা আরও বেশি দাম পাবার আশায় মাছটি ছাড়ছেন না। চলছে দর কষাকষি। যতনা ক্রেতা তার চেয়ে অনেক বেশি উত্সুক এলাকার সাধারণ মানুষ ভিড় জমিয়েছেন মাছটি দেখার জন্য।

বিনিরাইলের এই মাছের মেলায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন তো এসেছেনই, এর বাইরে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকেও অনেক মানুষ কেবল এই মেলা উপলক্ষেই কালীগঞ্জে এসেছেন। প্রতি বছর পৌষ-সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা। এবারের মেলায় তিন শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী মেলায় বাহারি মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। মেলায় মাছ ছাড়াও আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি ইত্যাদির পসরাও বসেছে। মাছের মেলায় সামুদ্রিক চিতল, রূপচাঁদা এবং দেশি বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কালী বাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি, বাইমসহ নানা জাতের দেশি মাছ ওঠে।

বিনিরাইলের মাছের মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু জানান, এই মেলাটি প্রথম প্রথম অনুষ্ঠিত হতো খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। মূলতঃ অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উত্সবে এই মাছ মেলার আয়োজন করা হতো। প্রায় ২৫০ বছর যাবত্ মেলাটির আয়োজন করে আসছেন এলাকার মুরব্বিরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেলাটি একটি সর্বজনীন উত্সবে রূপ নিয়েছে।