এখন থেকে কোন শ্রমিক কারখানায় হাজিরা দিয়ে (কার্ড পাঞ্চ করে) বেরিয়ে গেলে তিনি ওই দিনের মজুরি পাবেন না বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ে কারখানা মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরি কাঠামো সমন্বয়ের পর শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। শ্রম আইন সবার জন্যই প্রযোজ্য। কার্ড পাঞ্চ করে হাজিরা দিয়ে কোন শ্রমিক কারখানা থেকে বেরিয়ে গেলে তিনি ওই দিনের মজুরি পাবেন না।
সম্প্রতি গার্মেন্টসে মজুরি ইস্যুতে অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কারখানায় শ্রমিকরা সকালে এসে হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিনের মজুরি হিসাব করতে হলে কারখানা মালিকদের বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। কেননা কোন কাজ না হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি কারখানা শত শত কিংবা হাজার হাজার শ্রমিককে মজুরি পরিশোধ করতে হবে।
সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস কারখানার সব ধরনের অভিযোগ জানানোর জন্য শিগগিরই হট লাইন চালু করা হবে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) হটলাইন পরিচালনা করবে।
সভায় গার্মেন্টস মালিকরা গত কয়েকদিনের গার্মেন্টস কারখানায় শ্রম অসন্তোষের কারণে কোন নিরীহ শ্রমিক হয়রানির শিকার হবেন না বলে নিশ্চয়তা দেন। একই সঙ্গে কাজে যোগ দেয়ায় তারা শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান।
সভায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, হা-মিম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, ইন্ড্রাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন এবং শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ, সিরাজুল ইসলাম রনি, বাবুল আক্তার, নাজমা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।