ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নেই থাকছে বলে মনে করছেন ব্রেক্সিট গণভোটের প্রচারণায় অর্থ সহায়তা দেওয়া ব্যক্তিরা। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে যে খসড়া চুক্তি করেছেন সেটির ওপর গতকাল পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। রাত একটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোটের ফলাফল পাওয়া যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে হারবেন বলে আশংকা ছিল। মে’র দলের অনেক এমপিও বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন যারা ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও ইউ টুডে’র
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত একটা) পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোট শুরু হয়। ভোটের ফল পাওয়ার কথা সোয়া ৮টার মধ্যে। আশংকা ছিল, ব্রেক্সিট ভোটে অন্তত ২০০ ভোটের ব্যবধানে হারবেন থেরেসা মে। যদি এমন হয় তাহলে সেটা হবে ঐতিহাসিক। এর আগে ১৯২৪ সালে লেবার পার্টি ১৬৬ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিল। যদি অলৌকিক কিছু ঘটে যায় এবং সিংহভাগ এমপি যদি প্রধানমন্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়ান তাহলে পরিকল্পনামত তিন মাসের মধ্যে ব্রিটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে যাবে। রাজনীতিতে মে আরো বেশ কিছুদিন টিকে যাবেন। ভোটে হেরে গেলে প্রধানমন্ত্রী মহাসঙ্কটে পড়বেন। নিজের দলের এমপি-মন্ত্রীরা ছাড়াও বিরোধী লেবার পার্টি কতটা চড়াও হবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে ভোটের ব্যবধানের ওপর।
প্রধানমন্ত্রী মে গতকালও শেষবারের আবেদনে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, ভোট ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ জনগনকে খাটো করা হবে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড নিয়ে থেরেসা মে এমপিদের আশ্বস্ত করলেও কাজ হচ্ছে না। অধিকাংশ এমপিই বিরোধিতাই করছেন। পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গোভ বলেন, এমপিরা ব্রেক্সিট ভোটকে প্রত্যাখান করলে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’র দিকে যাবে। এতে অর্থনীতির ক্ষতি হবে। আর ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ আসলে ব্রেক্সিট নয়। অর্থাত্ ব্রিটেন শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নেই থেকে যাবে। এর আগে ইইউ’র একশ’ এমপি ইইউ থেকে বের না হতে ব্রিটিশ এমপিদের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ভোটের প্রচারণায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থদাতা পিটার হারগ্রিয়েভস এবং হেইজ ফান্ডের ম্যানেজার ক্রিসপিন ওদেই। তারা দুইজনই বলেছেন, ব্রিটেন ইইউতেই থাকবে। ২০১৬ সালের ভোটকে এমপিরা প্রত্যাখান করবেন বলে তারা মনে করেন।