একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো অনিয়মের আশংকায় ধানের শীষ প্রতীকে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন করবে না বিএনপি। তবে দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে বিএনপি আপত্তি করবে না। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেশিরভাগ নেতা উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পক্ষে মত দেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের পৃথক মতামত গ্রহন করা হবে। শিগগিরই এ দুটি জোটের বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় আড়াই ঘন্টা বৈঠকে উপজেলা নির্বাচন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে মামলা, দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন পালন এবং রাজনৈতিকভাবে করনীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে শিগগিরই ধানের শীষের প্রার্থীরা আদালতে মামলা করবেন। এজন্য সব তথ্য-প্রমাণ প্রস্তুত রাখার জন্য প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশনার খসড়া তৈরি করা হয়।
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর গত বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রথমবারের মতো বিএনপির সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠক হয়। তিন ঘন্টার সে বৈঠকের পুরো সময়ই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপিতে তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানে দলের কোনো সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে নেতারা মতামত দেন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাদের মতামত জানতে চান। সেখানে উপস্থিত সবাই নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন।